অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: বিল্ডিংয়ের পরিকাঠামোগত কাজ সম্পূর্ণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই উদ্বোধন হয়ে গেল কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের (Kaliaganj Hospital) নবনির্মিত ২৫০ বেডের হাসপাতাল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াগঞ্জের বিডিও বিদ্যুৎবরন বিশ্বাস, হাসপাতালের সুপার ডাঃ জয়দেব রায় সহ তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক অসীম ঘোষ, কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিরণ্ময় সরকার, প্রাক্তন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক তপন দেব সিংহ সহ অন্যরা।
যদিও উদ্বোধনের দিনেই হাসপাতালকে ঘিরে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। ইতিমধ্যে ইমারতের অন্দরের বহির্বিভাগের কাজ কোনওমতে সম্পন্ন হলেও চলছে রংয়ের কাজ। পাথরের মিস্ত্রি ব্যস্ত পাথর লাগানোর কাজে। সেইসঙ্গে এখনও চলছে ঢালাইয়ের কাজ। উদ্বোধনের দিনে বিল্ডিংয়ের ভিতর নেই কোনও চেয়ার, টেবিল অথবা স্বাস্থ্যকর্মীদের আনাগোনা৷ কেবল গুটিকয়েক ফ্যান এবং আলো জ্বলছে নবনির্মিত বিল্ডিংয়ের ভিতর। চারতলা বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোর যে বহির্বিভাগের রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হবে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সেই বিষয়েও কোনও নির্দেশিকা চোখে পড়ল না বিল্ডিং উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা আগে। এক রোগীর আত্মীয় মলিন দেবশর্মা নতুন বিল্ডিংয়ের ভিতর ঘুরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আলো, ফ্যান, বিল্ডিং সবই তো দেখলাম। কিন্তু, ২৫০ বেড কোথায়?’ অবশ্য কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার ডাঃ জয়দেব রায়ের বক্তব্য, ‘এখন বহির্বিভাগ চালু হচ্ছে৷ আগামী মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে নতুন বিল্ডিংয়ে হাসপাতাল পরিষেবা চালু হবে৷’
অবশ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই ২৫০ বেডের হাসপাতালকে ভোটের হাতিয়ার করতে কোমর কষে নেমে পড়েছে তৃণমূল। শহরের হাসপাতাল রোডের দু’ধারে তৃণমূলের পতাকা ফতফত করে উড়ছে৷ হাসপাতাল চত্বরে নীল-সাদা কাপড়ে মোড়ানো অস্থায়ী প্যান্ডেল নির্মাণ হয়েছে। দু’একজন করে তৃণমূল নেতা-নেত্রীর আগমন শুরু হয়েছে। তবে, এই উদ্বোধনকে ঘিরে কটাক্ষের সুরে স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলার গৌরাঙ্গ দাস বলেন, ‘এদিন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ দিয়ে একবারের জন্যেও কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের নবনির্মিত বিল্ডিং উদ্বোধনের কথা শোনা গেল না। আল্ট্রাসাউন্ড, ব্লাড ব্যাংক, উন্নতমানের ডিজিটাল এক্স-রে কিছুই নেই এই নবনির্মিত বিল্ডিংয়ের ভিতর। নেই, পর্যাপ্ত চিকিৎসকও। ভোটের আগে জনসাধারণকে টুপি পরাতে তৃণমূল এই কাণ্ড ঘটাল।’ পালটা শহর তৃণমূল সভাপতি সুজিত সরকারের যুক্তি, ‘গাছ লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়া যায় নাকি। বিজেপির তো এমপি, এমএলএ রয়েছে। এরা কী করেছে কালিয়াগঞ্জের উন্নয়নের জন্য? ধর্মীয় সুড়সুড়ি আর ভাঁওতাবাজি ছাড়া বিজেপির (BJP) কোনও অ্যাজেন্ডা নেই। তাই ওদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখে চক্ষুশূল হয়ে গিয়েছে।’

