অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ : দলীয় নির্দেশের খামখেয়ালিপনায় কালিয়াগঞ্জ পুরসভার (Kaliaganj Municipality) চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে কার্যত তালগোল পাকিয়েছে৷ শাসকদলের মুহুর্মুহু সিদ্ধান্ত বদলে দিশাহীন কালিয়াগঞ্জ পুরসভা। আর এই খেলায় রেশ ধরে রাখতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন খোদ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ঈশ্বর রজক এবং চেয়ারম্যান রামনিবাস সাহাও। কালিয়াগঞ্জ পুরসভার এহেন পরিস্থিতি দেখে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার বিজেপি (BJP) কাউন্সিলারদের কটাক্ষ, ‘কালিয়াগঞ্জ পুরসভাকে ঘিরে কার্যত সার্কাস চালাছে তৃণমূল (TMC)। নাগরিক পরিষেবার কথা চিন্তা না করে রাজনৈতিক মিউজিক্যাল চেয়ার খেলায় মেতে উঠেছে শাসকদল। বিভ্রান্ত হচ্ছে নাগরিক সমাজ৷’
শুক্রবার দুপুরে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ঈশ্বর রজক চেয়ারম্যান রামনিবাস সাহার নির্দেশ মেনে ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রামনিবাস তা গ্রহণও করেন। কিন্তু শনিবার সকালে ঈশ্বর রজক জানান, দলের নির্দেশে ফের তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টেকনিকালি আমার ওটা ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ আসলে দলের নির্দেশ মেনে চেয়ারম্যানকেই আগে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘আমি শুক্রবার রাতে তৃণমূল কাউন্সিলারকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলাম। ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত পদ৷ মনোনীত পদের আবার পদত্যাগ কি হয়? চেয়ারম্যান সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করবেন৷’
এদিকে, শুক্রবার বিকেলে রামনিবাস আগামী দুই থেকে তিনদিনের জন্য দল পদত্যাগপত্র স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন। এদিন সকালেই আবার কালিয়াগঞ্জ পুরসভায় বসে রামনিবাস বলেন, ‘দলের নির্দেশে আগামী সোমবার আমি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র প্রশাসনের কাছে জমা দেব৷’
তৃণমূলের অন্দরে এক রাতের মধ্যে কী এমন হল যে শুক্রবার বিকেলের সঙ্গে শনিবার সকালের বয়ানে চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানের কথার বিস্তর পার্থক্য তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন৷ শুক্রবার বিকেলে রামনিবাস সাহা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে দল এবং প্রশাসনের নির্দেশে দুই থেকে তিনদিন স্থগিতের কথা জানান। কিন্তু রাতেই রাজনৈতিক চিত্রের বদল ঘটে৷ কালিয়াগঞ্জ শহরের শেষ প্রান্তে বাঘন এলাকার এক হোটেলে সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলার এবং শহর তৃণমূল সভাপতি সুজিত সরকারকে নিয়ে তড়িঘড়ি গোপন বৈঠক সারেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। তৃণমূল কাউন্সিলার বসন্ত রায় বলেন, ‘কানাইয়ালাল সোমবার প্রথমে চেয়ারম্যান রামনিবাসকে পদত্যাগ করতে বলেছেন৷ তারপর পুর আইন মেনে নতুন চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ কুণ্ডু চেয়ারম্যান পদে আসীন হলে পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যানকে দলীয় নির্দেশ মেনে সরাবেন। মাঝে এই ক’দিন বিদায়ি ভাইস চেয়ারম্যান ঈশ্বর রজক পুরসভার দায়িত্ব পালন করবেন।’

