উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মাসিক আড়াই হাজার টাকা রোজগারে অন্যের বাড়িতে কাজ করা এক সাধারণ মহিলা আজ পশ্চিমবঙ্গের নতুন জন প্রতিনিধি। আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র (Ausgram) থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে কলিতা মাজি (Kalita Maji) প্রমাণ করলেন, জেদ আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে গণতন্ত্রে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
গুসকরা পুরসভার বাসিন্দা কলিতা মাজি দীর্ঘকাল চারটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। ২০২১ সালেও তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন, কিন্তু সেবার তৃণমূল প্রার্থীর কাছে প্রায় ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজিত হন। তবে হার মেনে ঘরে বসে থাকেননি তিনি। গত পাঁচ বছর সংগঠনের কাজে নিজেকে সঁপে দিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। দল তাঁর ওপর পুনরায় ভরসা রাখায় এবার ফল মিলেছে হাতেনাতে।


২০২৬-এর নির্বাচনে (West Bengal Election 2026) কলিতা মাজি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী শ্যাম প্রসন্ন লোহারকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি আউশগ্রামের রাশ নিজের হাতে নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতার জয় বাংলার বদলে যাওয়া সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার এক বলিষ্ঠ প্রতিফলন।
রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ২০৬টি আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম দিল্লি ও নবান্নে একই দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এই জয়ের আবহে সবথেকে বড় চমক ছিল ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়।
বিজেপির এই ঐতিহাসিক উত্থানের মাঝেও কলিতা মাজির গল্পটি আলাদা মর্যাদা পাচ্ছে। অন্যের বাড়ি পরিষ্কার করা হাত দুটি এখন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলবে—এটিই সম্ভবত এবারের নির্বাচনের সবথেকে বড় প্রাপ্তি। সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণি থেকেও যে নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছানো যায়, কলিতা মাজি আজ তারই জীবন্ত প্রতীক।

