অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: কলেজের নামফলক খসে পড়েছে অনেকদিন। জরাজীর্ণ গেটের মাথায় ঝুলছে একটি সাধারণ ফ্লেক্স। কালিয়াগঞ্জ কলেজের (Kaliyaganj College) এই বাহ্যিক শ্রীহীনতাই যেন ভেতরে চলা প্রশাসনিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। গত ১৭ মাস ধরে স্থায়ী অধ্যক্ষ নেই এই কলেজে। প্রতি ছয় মাস অন্তর বদলে যাচ্ছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপকের নাম। এর মাঝে স্থায়ী অধ্যক্ষ হিসেবে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁর যোগদান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ফলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ছাত্রছাত্রীর পঠনপাঠন ও কলেজের সামগ্রিক উন্নয়ন এখন বিশবাঁও জলে।
২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট অবসর নেন স্থায়ী অধ্যক্ষ ডঃ পীযূষ দাস। এরপর থেকেই সমস্যা শুরু। শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর স্থায়ী অধ্যক্ষ হিসেবে বারুইপুরের বাসিন্দা ডঃ অনুপম ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কাজে যোগ দেননি। কলেজের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ফণীভূষণ মণ্ডল বলেন, ‘অনুপম ঘোষ তিন থেকে চারবার সময় চেয়েছেন দায়িত্বভার গ্রহণ করার জন্য। তাঁকে সময়ও দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ইতিমধ্যে কালিয়াগঞ্জে (Kaliyaganj) এসে তিনি কয়েকবার ঘুরেও গিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার শেষ দিন ছিল ২২ জানুয়ারি। তারপর তাঁকে অফিশিয়ালি কোনও ছুটি দেওয়া হয়নি।’


এদিকে অনুপমের দাবি আবার ভিন্ন। তিনি নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘১৪ নভেম্বর মেইল মারফত জয়েনিং লেটার পেলেও হার্ড কপি আমি ২৮ নভেম্বর পেয়েছি। আমি কাজে যোগ দেওয়ার জন্য তিনমাস সময় চেয়েছিলাম। তাঁরা ১৪ দিন সময় দিয়েছিলেন। আমি একজন বেসরকারি কলেজের প্রফেসর। ফলে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসতে ন্যূনতম একমাসের সময় আমি চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে তা দেওয়া হয়নি। সময় পাইনি এবং সরকারি নির্দেশিকায় বেতনের স্কেল স্পষ্ট করে জানানোও হয়নি। এসব কারণে আমার কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।’ তবে অনুপম জানিয়েছেন, কালিয়াগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে তিনি ইচ্ছুক।
বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ইন্দ্রজিৎ দাস। স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় কাজের কী কী সমস্যা হচ্ছে? পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি বলেন, ‘এমন কোনও অসুবিধা হচ্ছে না কলেজ চালাতে। তবে কলেজের উন্নয়নে স্থায়ী অধ্যক্ষ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নেওয়া যায় না।’
কংগ্রেস আমলে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে ১৫ বছর ধরে গভর্নিং বডি নেই। স্থায়ী অধ্যক্ষের অভাবে লেখাপড়া লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছে। কলেজের এই দশা নিয়ে সরব হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোও। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা রাহুল সিংহ রায়ের অভিযোগ, ‘স্থায়ী অধ্যক্ষ কাজে যোগ না দিলে ছাত্রছাত্রীরা বেশ অসুবিধার মধ্যে পড়ছে।’
অন্যদিকে, এবিভিপি নেতা যুবরাজ রায় সরাসরি রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, ‘স্থায়ী অধ্যক্ষ চলে যাওয়ার পর থেকে কলেজ এখন পিকনিক গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে।’

