পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: তাদের সকলের দাবি এক। পৃথক রাজ্য এবং নিজেদের ভাষাকে অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যেই ব্যবধান রাখছে কামতাপুরি সংগঠনগুলি। উত্তরবঙ্গের কামতাপুরি-রাজবংশী ভোট (Kamtapuri Vote) এবারের ভোটে সম্ভবত এককাট্টা থাকছে না। কেউ আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট করে লড়াই করছে। তো কেউ বিজেপিকে সমর্থন জানানো গোর্খা প্রার্থীদের সঙ্গে রয়েছে। কেউ আবার বিজেপির প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও নিজেরাই প্রার্থী দিয়েছে। তৃণমূলের প্রার্থীদের প্রতিও সমর্থন রয়েছে কারও কারও।
কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে জোট করেছে। নিখিল রায়ের কামতাপুর পিপলস পার্টি (ইউনাইটেড) আঞ্চলিক জোট করে লড়াই করছে। অন্যদিকে, কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টিও দুই গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে একপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, অপরপক্ষ তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থন করছে।


কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের (কেএসডিসি) সভাপতি তপতী রায়মল্লিক নিজেই ময়নাগুড়ি কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন। কেএলও চিফ জীবন সিংহের সঙ্গে একাধিকবার দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করেছেন তিনি। কিন্তু রফাসূত্র বের হয়নি। ভোটের আগে কেন্দ্রের তরফে কোনও সদর্থক উত্তর না পেয়ে কেএসডিসি উত্তরবঙ্গজুড়ে ৩৫টি আসনে এককভাবে লড়াই করছে। শুধু পাহাড়ে তারা গুরুংকে সমর্থন করছে। গুরুং বিজেপিকে সমর্থন করলেও সমতলে বিজেপির বিরুদ্ধেও প্রার্থী দিয়েছে কেএসডিসি। তপতী বলেন, ‘কেন্দ্রের সঙ্গে জীবন সিংহের শান্তি আলোচনার ফলাফল এখনও কেন্দ্র জানায়নি। তাই আমরা জনগণের কথা মেনে নিজেরাই প্রার্থী দিয়েছি।’
কামতাপুর পিপলস পার্টির দুই নেতা নিখিল রায় ও প্রয়াত অতুল রায়ের আন্দোলনের খবর সকলেরই জানা। অতুল (বর্তমানে প্রয়াত) কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টি গঠন করেছিলেন। সেই দল এখন দ্বিধাবিভক্ত। অতুলের ছেলে অমিত রায় কামতাপুর ভাষা আকাদেমির চেয়ারম্যান। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ দিনাজপুরে তাঁরা দুটি আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। ময়নাগুড়ি সহ আরও বেশ কয়েকটি আসনে তাঁরা তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন করছেন।
অন্যদিকে, কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টির বুধারু রায় ও অভিজিৎ রায় গোষ্ঠী রয়েছে। বেরুবাড়ির সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলে তাঁর সঙ্গে বুধারু ও অভিজিতের একপ্রস্থ আলোচনা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। অভিজিৎ বলেন, ‘আমরা উত্তরবঙ্গে ৩০টি আসনে যেখানে আমাদের শক্তি রয়েছে সেখানে তৃণমূলকে সমর্থন করছি।’
তবে কামতাপুর পিপলস পার্টি (ইউনাইটেড) অবশ্য আঞ্চলিক কিছু দলের সঙ্গে জোট করে এককভাবে উত্তরবঙ্গে ১৫টি আসনে লড়াই করছে। নিখিলের বক্তব্য, ‘বরাবর আমরা আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট করেছি।’
এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গে কামতাপুরিদের সংগঠনগুলি আদতে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নির্বাচনে। তাতে নিজেদের ভোটব্যাংক ভাগাভাগির সম্ভাবনা প্রবল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি কামতাপুরি জনসাধারণকে নিজেদের দিকে টানার জন্য নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নিজেদের জনজাতির এতগুলি সংগঠনের প্রার্থীদের ভোট দেবেন, নাকি মুখ্য রাজনৈতিক দলের পাশেই থাকবেন, তা নিয়ে কামতাপুরি ও রাজবংশী ভোটাররা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

