উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে (WB Election Result 2026) উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অবশেষে মুখ খুললেন বিদায়ী বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mullick)। ফল প্রকাশের পর ৪ মে-র পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কাঞ্চন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্তই ছিল তাঁর জীবনের সঠিক পদক্ষেপ। ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
কথার শুরুতেই কাঞ্চন জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে রাজনীতিতে এলেও বিগত পাঁচ বছরে তাঁর অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। বড় ব্যবধানে জিতেও উত্তরপাড়ার মাখলায় একটি ক্লাবে বসে কাজ করতে হতো তাঁকে। কোনও নির্দিষ্ট অফিস পাননি তিনি। কাঞ্চনের কথায়, “ওখানকার শীর্ষনেতাদের অসহযোগিতা ও খারাপ ব্যবহার মুখ বুজে সহ্য করেছি শুধুমাত্র মমতার মুখ চেয়ে, যাতে দলীয় কোন্দল সামনে না আসে।” গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না থাকলে এবারের পরাজয় হয়তো এড়ানো যেত বলেও মনে করেন তিনি।


রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষের জয়ে খুশি কাঞ্চন। রুদ্রনীলকে ‘রাজনীতির শিকার’ বলে উল্লেখ করে তাঁর লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, রাজ চক্রবর্তীর প্রতি ঘটে যাওয়া কাদা ছোড়ার ঘটনারও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কাঞ্চন। তাঁর মতে, অন্যের নিরানন্দ যেন কারও আনন্দের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
আজ ৬ মে, অভিনেতার জন্মদিন। রাজনৈতিক হার-জিত ভুলে আপাতত মেয়ে কৃষভি ও স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের সঙ্গেই সময় কাটাতে চান তিনি। শ্রীময়ী জানান, মেয়ে অসুস্থ থাকায় বড় কোনও আয়োজন না থাকলেও বাড়িতে কাঞ্চনের প্রিয় পদগুলি রান্না করা হবে। পাশাপাশি যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্রীময়ী।
কাঞ্চন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৩৪ বছরের অভিনয় জীবনই তাঁর আসল পরিচয়। শিরদাঁড়া সোজা রেখে বিধায়কের কার্যকাল শেষ করে এখন শান্তিতে অভিনয় জগতেই ফিরতে চান তিনি।

