নয়াদিল্লি: ‘প্রিয় ক্রিকেট, প্লিজ আর একটা সুযোগ দাও।’
বীরেন্দ্র শেহবাগের পর দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে ত্রিশতরান করেও বাদ পড়েছিলেন পরের টেস্টেই! পরে ফিরে এসে সেই ছন্দটা খুঁজে পাননি করুণ নায়ার। ক্রমে হারিয়ে যান নতুনদের ভিড়ে। গত কয়েক বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা ছোটালেও নির্বাচকদের ‘ধীরে চলো নীতি’-তে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছিল। সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘প্লিজ আর একটা সুযোগ দাও।’
অবশেষে সুযোগ। ৩০০০ দিনের লম্বা প্রতীক্ষার অবসান। ২০১৭-র (অস্ট্রেলিয়া, ধরমশালা) পর আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে। একেবারে বিলেত সফরে। আজ পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সফরের জন্য ঘোষিত ১৮ সদস্যের যে দলে ঠাঁই মিলেছে করুণের। ধৈর্য, অপেক্ষা, হার না মানা মানসিকতার পুরস্কার। ইংলিশ কন্ডিশনে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাহীন ব্যাটিংকে ভরসা জোগানোর পরীক্ষা।
দল ঘোষণার পর স্বভাবতই করুণকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ঘনিষ্ঠমহলে। কয়েক বছর আগে করা ‘প্রিয় ক্রিকেট, প্লিজ আর একটা সুযোগ দাও’ ফের ভাইরাল। ২০২৪-’২৫ মরশুমে দুই হাত ভরা সাফল্য। রনজি ট্রফিতে ৯টি ম্যাচে চারটি শতরান সহ ৮৬৩ রান। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৭৭৯। করুণের যে দাপট আর অস্বীকার করতে পারেননি নির্বাচকরা। ২৫ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক। ঠিক ৮ বছর ২ মাস পর ৩৩-এ ফের টেস্ট টিমে ডাক।
খুশিতে ভাসছেন নায়ারের ছোটবেলার কোচ বি শিবানন্দ। বলেছেন, ‘যে কোনও পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখতে জানে। সবসময় বলত, স্যর ক্রিকেট আমাকে আরও একটা সুযোগ ঠিক দেবে। কখনও ওকে জিজ্ঞাসা করিনি, কেন টেস্ট থেকে বাদ পড়ল। ও হল ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা। অনেকেই আছে, তার মধ্যে ও অন্যতম। জানতাম, ঈশ্বর ওর সঙ্গে আছে, সুযোগ পাবে। আমি নিশ্চিত, এবার আরও ভালো খেলবে।’
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মোহালিতে অভিষেক টেস্টে ৪ করেছিলেন। পরের ম্যাচে ৩০৩! শেহবাগের পর দ্বিতীয় ভারতীয়। যাকে স্বাগত জানিয়ে বীরু লিখেছিলেন, ‘ত্রিশতরানের ক্লাবে বড্ড একা একা লাগছিল। তোমাকে পেয়ে ভালো লাগছে। স্বাগত করুণ নায়ার।’ তারপরও কেন ছিটকে যাওয়া, আজও উত্তর নেই বি শিবানন্দের কাছে।
নায়ারের কোচ বলেছেন, ‘সঠিক কারণ জানি না। শেহবাগের পর দ্বিতীয় ভারতীয় ত্রিশতরানকারী। এই রকম প্রতিভাকে ধরে রাখার বদলে ছাঁটাই! সঠিক পদক্ষেপ ছিল না। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঙ্গে টিস্যু পেপারের মতো ব্যবহার অনুচিত। অনেকে ভেবেছিল ও হয়তো খেলাই ছেড়ে দেবে। কিন্তু খিদেটা মরতে দেয়নি। সুফল আজকের ডাক।’
করুণের মতো দীর্ঘ না হলেও টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার জন্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকতে হয়েছে অর্শদীপ সিংকেও। ২০২২-এ টি২০ অভিষেক। প্রথমবার ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েই সাড়া ফেলে দেন। ক্রমে ভারতীয় টি২০ দলে পেস ব্রিগেডের মুখ হয়ে ওঠা। গত টি২০ বিশ্বকাপ জয়েও জসপ্রীত বুমরাহ সমৃদ্ধ ভারতীয় পেস ব্রিগেডে সবচেয়ে সফল ছিলেন অর্শদীপ।
যুযবেন্দ্র চাহালকে টপকে টি২০-তে ভারতের সর্বাধিক উইকেটশিকারিও। বাঁহাতি বোলার, তারপর দুইদিকে সুইং করানোর মুনশিয়ানা। গত অজি সফরে অর্শদীপের ডাক না পাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অবশেষে বিতর্কের অবসান। পেস ব্রিগেডের বৈচিত্র্য আনতে অর্শদীপে ভরসা। প্রথমবার টেস্ট দলে ডাক। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা, বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজের সঙ্গে শুরু থেকেই অর্শদীপ খেলবে। অজিত ওয়াদেকারও বলেছেন, ‘অত্যন্ত দক্ষ বোলার। গত ২ বছর ধরে ওর পারফরমেন্সের ওপর আমাদের নজর ছিল। তারই ভিত্তিতে ইংল্যান্ডগামী টেস্ট দলে ডাক।’

