উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নিজের কলেজে গণধর্ষণের শিকার তরুণী। কসবাকাণ্ডে (Kasba Case) তোলপাড় সর্বত্র। খাস কলকাতায় ল’কলেজে এমন ঘটনা সাড়া ফেলে দিয়েছে রাজ্যে। কী হয়েছিল সেদিন? পুলিশের কাছে ঠিক কী জানালেন নির্যাতিতা?। অভিযোগকারিনীর বক্তব্যে শিউরে ওঠার মতো বর্ণনা।
অভিযোগপত্রে তিনজনের নাম রয়েছে। অভিযোগ, প্রত্যাখ্যাত হয়ে যখন মূল অভিযুক্ত তরুণীর উপর নারকীয় অত্যাচার শুরু করে, তখন বাইরে থেকে নীরব দর্শক এবং কখনও কখনও সাহায্যকারীর ভূমিকা নিয়েছে বাকি দু’জন। প্রথমবার ইউনিয়ন রুমের ওয়াশরুমের কাছে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তখন বাইরে পাহারায় থাকে দু’জন। সেইসময় তাঁর প্যানিক অ্যাটাক এবং ব্রিদিং সমস্যা দেখা দেওয়ায় অভিযোগকারিনী মূল অভিযুক্ত সহ বাকিদের বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও সাহায্য করেনি অভিযুক্ত। পরে ইনহেলার কিনে এনে দিতে বলেন অভিযোগকারিনী। অভিযুক্ত তখন একজনকে দিয়ে ইনহেলার আনিয়ে দেয়। তরুণীর অভিযোগ, অনুনয়-বিনয় করেও তিনি রেহাই পাননি। এমনকি পায়ে পড়েছেন। শারীরিক নির্যাতনের সময় হকি স্টিক দিয়ে মারধরও করে অভিযুক্ত।


পুলিশের কাছে নির্যাতিতার বয়ান অনুয়ায়ী, ২৫ মে পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের জন্য কলেজে গিয়েছিলেন তিনি। দুপুরে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয়ে যায়। তারপর তিনি ইউনিয়ন রুমে গিয়েছিলেন। নির্যাতিতা জানান, মূল অভিযুক্ত ইউনিয়ন রুমে ঢুকে বলে, ‘ওখানে উপস্থিত সকলে যেন ইউনিয়ন রুমে থাকি। আমরা তা-ই করি। ওই ব্যক্তি কলেজের প্রাক্তনী এবং বকলমে আমাদের কলেজের টিএমসিপি ইউনিটের প্রধান। কলেজে সে বিশেষ প্রভাবশালী। সকলে ওর কথা শোনে। উনিই আমাদের সকলকে টিএমসিপি-র বিভিন্ন পদে বসিয়েছে। আমাকে ছাত্রীদের সেক্রেটারি করেছে উনিই।’ নির্যাতিতা অভিযোগে জানান, সেদিন দুপুরে সবাই ইউনিয়ন রুমে ঠাট্টা-তামাশা করছিলেন। বিকেল ৪টে নাগাদ অনেকেই ইউনিয়ন রুম থেকে বেরিয়ে যান। তিনিও কলেজের গেটের দিকে এগোচ্ছিলেন। সেইসময় কলেজের জিএস-এর (জেনারেল সেক্রেটারি) সঙ্গে দেখা হয় এবং দু’জনে কথা বলেছিলেন। এরপর মূল অভিযুক্ত তাঁকে একবার ইউনিয়ন রুমে যেতে বলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য। মোটের উপর সাত জন ইউনিয়ন রুমে জড়ো হয়। সেখানে মূল অভিযুক্ত তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু করে। সে কতটা প্রভাবশালী সে সব উল্লেখ করা হয়।
তরুণীর দাবি, তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তরুণী সেসব প্রত্যাখ্যান করেন। তরুণীর দাবি, তখনও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। সন্ধ্যা নাগাদ ইউনিয়ন রুমে উপস্থিত অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রী বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিও বাড়ি যাওয়ার জন্য বেরোচ্ছিলেন। ঠিক তখন তাঁকে আটকানো হয়। সাড়ে ৭টা নাগাদ তিনি বেরোতে গেলে আবার তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। এরপর চোখের ইশারায় অন্য দুই অভিযুক্ত ইউনিয়ন রুমের বাইরে বেরিয়ে যায়। তরুণীর দাবি, ‘ওরা বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন রুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ঘটনাটা ঘটে যায়।’ তরুণীকে হকি স্টিক দিয়ে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গ্রেপ্তার (Arrest) করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত সহ ২ জনকে। ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে মহিলা কমিশন। তিনদিনের মধ্যে সিপি-র কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সঙ্গে তৃণমূল (TMC) নেতাদের ছবি সামনে আসায় বিতর্ক দানা বাঁধে। তবে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে রাজ্যের শাসকদল।

