রাজগঞ্জ: রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের পরামর্শ দাতা ‘আইপ্যাক’ (IPAC) এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) কাঠগড়ায় তুললেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা বর্ষীয়ান বিধায়ক খগেশ্বর রায় (Khageswar Roy)। বুধবার দলীয় নেতৃত্ব ও রণকৌশল নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি।
খগেশ্বর রায়ের দাবি, “দলের সমস্ত কর্মসূচি ঠিক করত আইপ্যাক। বুথ বা অঞ্চল সভাপতির কোনো অধিকার ছিল না মিটিং-মিছিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে যখন-তখন অঞ্চল সভাপতি বদল করা হয়েছে। এই কাজ আইপ্যাক এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন।” প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও একই ভুল হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, স্থানীয় নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখেই টিকিট বিলি করা হয়েছে।


রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত নির্বাচনে খগেশ্বর রায় নিজে এখানে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতলেও, এবার দলের প্রার্থী স্বপ্না বর্মন ২১ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এই পরাজয় প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “যাকে প্রার্থী করা হয়েছিল সে খেলোয়াড়। খেলা আর রাজনীতি এক নয়। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কোথায়? আমি বাম আমলে জিতে আসা মানুষ, মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় আছে। কিন্তু আইপ্যাক স্থানীয় নেতৃত্বকে না জানিয়ে স্বপ্নাকে বেছে নিল, ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো।”
অন্যদিকে, রাজগঞ্জের তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসকে কেন্দ্র করে চলা সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়েও মুখ খোলেন খগেশ্বর বাবু। তিনি সাফ জানান, কৃষ্ণ দাসের ঘটনা দলের বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তাঁর কথায়, “দল কখনো বলেনি কৃষ্ণ দাস তুমি লড়াই করো। যে আদা খাবে তার ঝাল লাগবে। কই, আমাকে তো কেউ মারতে আসেনি? আমি তো বেলাকোবা বাজারে বসে আড্ডা দিই।” বিজেপি কর্মীদের জয়োল্লাসকে স্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে তিনি কর্মীদের সংযত থাকার পরামর্শ দেন।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমরনাথ কে জানিয়েছেন, কৃষ্ণ দাসের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত কৃষ্ণ দাস বর্তমানে পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে। জেলা রাজনীতিতে খগেশ্বর রায়ের এই মন্তব্য এখন রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

