সাগর বাগচী ও মহম্মদ হাসিম,নকশালবাড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়িতে কংগ্রেসের হাই-ভোল্টেজ জনসভা ঘিরে তৈরি হল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সোমবার কংগ্রেসের ৭ জন প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ ৩৭ মিনিটের বক্তৃতায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করার জন্য তিনি বরাদ্দ করলেন মাত্র দেড় মিনিট! বাকি পুরো সময়টাই তিনি ব্যয় করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও বিজেপি সরকারকে নিশানা করতে।
এদিন নকশালবাড়ির সভায় মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। বিশেষ করে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদী সরকারের ‘ষড়যন্ত্র’ নিয়ে সরব হন তিনি। খাড়গের দাবি: মহিলা সংরক্ষণ বিলের নামে মোদী সরকার আসলে ডিলিমিটেশন বিল এনে দেশের সর্বনাশ করতে চেয়েছিল। এটা কেবল বাংলার নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা ছিল।


আশ্চর্যের বিষয় হল, পুরো সভায় তিনি মাত্র একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উচ্চারণ করেন। স্থানীয় বা আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি তিনি, যা নিয়ে উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
সভা চলাকালীন এক নজিরবিহীন দৃশ্য ধরা পড়ে। খাড়গে যখন জাতীয় রাজনীতি এবং কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে ব্যস্ত, তখন দেখা যায় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা একে একে চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে যাচ্ছেন। ২৫ মিনিটের মাথায় মাঠের পেছনের দিকের প্রায় সমস্ত চেয়ারই ফাঁকা হয়ে যায়।
উপস্থিত কর্মীদের একাংশের দাবি, “আমরা আশা করেছিলাম সর্বভারতীয় সভাপতি এ রাজ্যে এসে তৃণমূলের অপশাসন নিয়েও কড়া বার্তা দেবেন। কিন্তু তিনি জাতীয় ইস্যুতেই আটকে থাকলেন।”
রাজ্যের ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়ে খাড়গে বলেন, তৃণমূল ও বিজেপির লড়াইয়ে আখেরে রাজ্যেরই ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাবে ছেলেমেয়েরা বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কংগ্রেস শক্তিশালী না হলে বিজেপিকে অন্য কেউ হারাতে পারবে না। তবে বক্তৃতার শেষে তাঁর মুখে শোনা যায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান।
এদিনের সভায় দার্জিলিং জেলার ৫ জন প্রার্থী এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ও কালিম্পংয়ের প্রার্থীদের সমর্থনে উপস্থিত ছিলেন:গোলাম আহমেদ মীর (সর্বভারতীয় কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক),পাপ্পু যাদব (সাংসদ) এবং সুবীন ভৌমিক (দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস সভাপতি)।

