উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কিডনিতে পাথর বা স্টোন এখন ঘরে ঘরে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Kidney Stone)। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আর অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ছোট থেকে বড়, যে কেউ যে কোনও সময় এই যন্ত্রণার শিকার হতে পারেন। অনেকেই মনে করেন, প্রচুর পরিমাণে জল খেলেই কিডনি স্টোন সেরে যায়। কিন্তু বিষয়টি কি সত্যিই তাই?
চিকিৎসকদের মতে, জল কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য হলেও এটি কোনও জাদুকরী ওষুধ বা ‘মহৌষধ’ নয়। আসলে কিডনির কাজ হল রক্ত ছেঁকে দূষিত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়া। শরীরে জলের অভাব হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবে থাকা ক্যালশিয়াম, অক্সালেট এবং ইউরিক অ্যাসিড জমাট বেঁধে পাথরের আকার নেয়। পর্যাপ্ত জল খেলে প্রস্রাব পাতলা থাকে, ফলে পাথর জমার সুযোগ কম পায়। তাই জল খাওয়া মূলত একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, নিরাময় নয়।
অনেকের ধারণা, পাথর হলে বেশি জল খেলে তা গলে বেরিয়ে যাবে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা আংশিক সত্য। পাথর যদি ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট হয়, তবে জলের তোড়ে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু জল কখনও পাথরকে গলাতে পারে না। পাথর বড় হয়ে গেলে তা বের করার জন্য ওষুধ, শব্দতরঙ্গ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
সতর্ক থাকবেন কীভাবে?
কিডনি সুস্থ রাখতে দিনে অন্তত ১০-১২ গ্লাস জল খাওয়া প্রয়োজন। যদি দেখেন প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হচ্ছে, বুঝবেন শরীরে জলের অভাব রয়েছে। এছাড়া নুন, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত অক্সালেট যুক্ত খাবার (যেমন—পালংশাক, বিট, বাদাম) এড়িয়ে চলাই ভালো। মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত জল পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায় ঠিকই, কিন্তু সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা।

