কিশনগঞ্জ: ২০০৯ সালে সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগ দিয়ে ২০২৩-এ ইন্সপেক্টর হওয়া অভিষেক রঞ্জনের সম্পত্তির গ্রাফ কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। বিহার পুলিশের এই আধিকারিকের বিরুদ্ধে আয়ের তুলনায় ১১৫.৬৬ শতাংশ অতিরিক্ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল ‘ইকোনমিক অফেন্সেস ইউনিট’ (EOU Bihar Raid)। মঙ্গলবার কিশনগঞ্জ, পাটনা, ছাপরা, মুজফফরপুর এবং তাঁর পৈতৃক ভিটেয় তল্লাশি চালিয়ে যে তথ্যে সামনে এসেছে, তাতে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের।
শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে গভীর যোগ: তদন্তে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের অবৈধ বিনিয়োগের একটি বড় অংশ রয়েছে শিলিগুড়িতে।


- জমি সিন্ডিকেট: শিলিগুড়ির সেবক রোড-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে ও বেনামে প্রচুর জমির হদিশ মিলেছে। অভিযোগ, শিলিগুড়ির জমি কেনাবেচা সিন্ডিকেটে অভিষেক রঞ্জনের বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা রয়েছে।
- বিলাসবহুল যাপন: নিজের বড় ছেলেকে শিলিগুড়ির একটি নামী বেসরকারি স্কুলে ২.৫ লক্ষ টাকা ফি দিয়ে ভর্তি করেছেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সপরিবারে বাগডোগরা থেকে বিমানে মুম্বই উড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে টানা পাঁচদিন বিলাসবহুল ‘তাজ’ হোটেলে থেকে শপিং ও আমোদ-প্রমোদে লক্ষ লক্ষ টাকা উড়িয়েছেন।
মাফিয়া যোগ ও দুর্নীতির জাল: কিশনগঞ্জ সদরের প্রাক্তন আইসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় লটারি, বালি, মদ এবং মাদক মাফিয়াদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, থানার মামলা প্রত্যাহারের জন্য ঘুস হিসেবে নেওয়া টাকা তিনি সরাসরি হাতে নিতেন না; চায়ের দোকানের দালালের মাধ্যমে সেই কারবার চলত। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তিনি ৬টি বড় ট্রাক কিনেছেন বলেও নথিপত্রে দেখা গিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি ও নথিপত্র: তল্লাশিতে কিশনগঞ্জ, পাটনা, মুজফফরপুর ও চন্দবারায় ৪ তলা বাড়ি এবং একাধিক প্লটের নথি উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া:
- অভিষেক ও তাঁর স্ত্রী অঙ্কিতা কুমারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কয়েক লক্ষ টাকা এবং জীবন বিমা ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিপুল বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে।
- উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি দামি স্মার্টফোন।
- ইওইউ-র প্রাথমিক তদন্তে ১ কোটি ৭০ লক্ষ ২২ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সরাসরি হদিশ মিললেও, সব মিলিয়ে অবৈধ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিহারের অপরাধ দমন ইউনিট জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিষেক রঞ্জনের বেশিরভাগ সম্পত্তিই স্ত্রী, শ্যালক এবং নিকট আত্মীয়দের নামে কেনা। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ‘কালো টাকার’ পাহাড়ের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

