কিশনগঞ্জ: রাত পোহালেই মহাশিবরাত্রি (Mahashivratri)। এই পুণ্য তিথিকে কেন্দ্র করে বিহারের কিশনগঞ্জ জেলার নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন ঠাকুরগঞ্জের শতাব্দী প্রাচীন হরগৌরী শিব মন্দির (Thakurganj Haragouri Shiv Mandir) এখন উৎসবের মেজাজে। মহাভারত কালীন এই পবিত্র ধামটি সেজে উঠেছে কনের সাজে। শনিবার থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মিলন মেলা।
এই মন্দিরের শিবলিঙ্গটি দেশের অন্যান্য মন্দিরের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানকার শিবলিঙ্গের একদিকে মহাদেবের এবং অন্যদিকে দেবী পার্বতীর শ্রীমুখ অঙ্কিত। এই বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণেই মন্দিরটি ‘হরগৌরী’ মন্দির নামে বিশ্ববিখ্যাত। উত্তরবঙ্গ, বিহার এবং প্রতিবেশী দেশ নেপাল থেকে হাজার হাজার ভক্ত এই অলৌকিক লিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে প্রতি বছর ভিড় জমান।
এই মন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার রাজবাড়ি ও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির নাম। ১৮৮০ সালে পাথুরিয়াঘাটার জমিদার রাজা যতীন্দ্র মোহন ঠাকুর নেপালের রাজার কাছ থেকে তৎকালীন ‘কনকপুর’-এর জমিদারি কেনেন। তাঁর নামানুসারেই কনকপুরের নতুন নাম হয় ‘ঠাকুরগঞ্জ’। ১৮৯৭ সালে রাজার নির্দেশে একটি প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ খননের সময় এই এক ফুট লম্বা শিবলিঙ্গটি পাওয়া যায়। কথিত আছে, রাজা যতীন্দ্র মোহন ঠাকুর এই লিঙ্গটি কলকাতায় নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বারবার বাধা পাওয়ায় তিনি স্বপ্নাদেশ পান যে, লিঙ্গটি ঠাকুরগঞ্জেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অবশেষে ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯০১ সালে বর্তমান স্থানে মন্দিরটি স্থাপিত হয়।
শুরু থেকেই এই মন্দিরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পুরোহিত পরিবার পূজা দিয়ে আসছেন। মন্দিরের প্রথম পুরোহিত ছিলেন ভোলানাথ গঙ্গোপাধ্যায়। বর্তমানে তাঁর উত্তরপুরুষ সোমনাথ গঙ্গোপাধ্যায় মন্দিরের সেবায় নিয়োজিত। ২০০১ সালে মন্দিরটির ১০০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে বিশাল সমারোহে জীর্ণোদ্ধার ও শতাব্দী উৎসব পালিত হয়েছিল।
মেলা ও মহাশিবরাত্রির ভিড় সামলাতে জেলা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও সাদা পোশাকের পুলিশের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে মন্দির চত্বরে। প্রশাসনের আশা, প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের সমাগমে মন্দির প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

