উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় রেলের মুকুটে যুক্ত হলো এক নতুন পালক। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper Train) চালু হয়েছে কলকাতা (হাওড়া) এবং গুয়াহাটির মধ্যে। বিমানের মতো অত্যাধুনিক অন্দরসজ্জা এবং দ্রুতগতির জন্য পরিচিত এই ট্রেনটি রাজধানী এক্সপ্রেসের চেয়েও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে। প্রায় ১০০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে এই ট্রেনের সময় লাগবে মাত্র ১১ ঘন্টা।
এই নতুন স্লিপার ট্রেনের বেশ কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই ট্রেনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এতে কোনো ‘ভিআইপি কোটা’-র ব্যবস্থা রাখা হয়নি (No VIP Quota)। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই ট্রেনে সকল যাত্রী সমান এবং সবাইকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।
গতি এবং সময় ট্রেনটির নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৬০ কিলোমিটার। তবে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বর্তমানে রেলওয়ে ট্র্যাকের পরিকাঠামোর কথা মাথায় রেখে এটি এখন ঘন্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। তা সত্ত্বেও, এটি বর্তমানের অন্যান্য দ্রুতগামী ট্রেনের তুলনায় অনেক কম সময়ে হাওড়া ও গুয়াহাটির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে।
যাত্রাপথে খাবারের মেনুতেও থাকছে বিশেষ চমক। যাত্রীদের জন্য উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলার স্থানীয় সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের (Local Cuisine) ব্যবস্থা থাকছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, কোচগুলোতে যাতে খাবারের গন্ধ না ছড়ায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীদের অস্বস্তি না হয়।
বিইএমএল (BEML) দ্বারা নির্মিত এই ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করলেই বিমানের মতো অনুভূতি হবে। ক্রিম, হলুদ এবং কাঠের রঙের মিশ্রণে তৈরি এর অন্দরসজ্জা অত্যন্ত আধুনিক। ট্রেনটিতে এসি ৩ টিয়ার, এসি ২ টিয়ার এবং ফার্স্ট ক্লাস—এই তিনটি বিভাগ রয়েছে।
যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য প্রতিটি বার্থেই রয়েছে রিডিং লাইট, চার্জিং পয়েন্ট এবং স্ন্যাক টেবিল। এছাড়াও রয়েছে বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট এবং সেন্সরযুক্ত জলের কল। বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের (দিব্যাঙ্গজন) জন্য আলাদা বার্থ ও শৌচালয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Safety Features) যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়েও এই ট্রেনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি অত্যাধুনিক ‘কবচ’ (KAVACH) সুরক্ষা প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এছাড়াও প্রতিটি কোচে সিসিটিভি ক্যামেরা, জরুরি প্রয়োজনে চালকের সাথে কথা বলার জন্য টক-ব্যাক ইউনিট এবং উন্নত অগ্নি সনাক্তকরণ ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি ট্রেনের কম্বলগুলোও এমনভাবে তৈরি যাতে স্যুপ বা তরল পড়লে তা ভিজে না যায়। এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই দ্রুত করবে না, বরং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল ভ্রমণে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

