নীতেশ বর্মন ও অমৃতা দে, শিলিগুড়ি ও দিনহাটা: ভোটের মুখে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল (কেএসডিসি) (KSDC Political Dispute)-কে ঘিরে জোর রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই শীর্ষ নেতৃত্বের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও।
কেএসডিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র অনন্ত বর্মন অভিযোগ করেছেন, কেএলও চিফ জীবন সিংহকে (Jibon Singha) গুয়াহাটিতে কেন্দ্রীয় সরকার আটকে রেখেছে এবং তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে। সেই চাপের ফলেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভানেত্রী তপতী রায়মল্লিককে দিয়ে বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা করানো হয়েছে।


প্রসঙ্গত, তপতী একটি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সেই কারণেই বিধানসভা ভোটে জীবনের নির্দেশে কেএসডিসি বিজেপিকে সমর্থন করবে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন কেন্দ্রে কেএসডিসি (KSDC) প্রার্থী দিলেও তারা বিজেপির সমর্থনে প্রচার চালাবে। পাশাপাশি তিনি রাজবংশী সমাজের মানুষকে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
কিন্তু ওই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নেন কেএসডিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র। অনন্ত স্পষ্ট বলেন, ‘তপতীর এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের সর্বসম্মত নয় এবং তা মানা হবে না। জীবনের ওপর অত্যাচারের খবর পৌঁছোতেই তপতী মানসিক চাপে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংগঠনের বাকি নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে না।’
অনন্তর সংযোজন, ‘কেএসডিসি প্রার্থীদের কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় স্বাধীনভাবে প্রচার চালাবেন এবং নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন।’ প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গে কেএসডিসি মোট ২৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
অনন্ত দাবি করেছেন, দু’দিন আগেই ফোনে জীবনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সেই সময় জীবন জানিয়েছিলেন, তাঁকে গুয়াহাটিতে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যদিও তপতীর সাংবাদিক বৈঠকের পর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি বলেও জানান অনন্ত।
এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের ভিতরে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। নেতৃত্বের এই মতবিরোধ নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশেষে এই কোন্দলের অবসান ঘটাতে স্বয়ং জীবন ভার্চুয়াল বার্তা দিলেন। সেখানে তিনি বিজেপিকে ভোট দেওয়ার নিদান দিয়েছেন। কিন্তু এটিকেও সাজানো বলে দাবি করছেন সংগঠনের তপতী বিরোধী একাংশ। এতে কোন্দল আরও চরমে।
এদিন ১৭ জন প্রার্থীকে নিয়ে কেএসডিসি’র সভানেত্রীর সিদ্ধান্তকে না মানার ঘোষণা করেছেন সংগঠনের বিক্ষুব্ধরা। তাঁদের মধ্যে অষ্টমী রায়সিংহ বলেন, ‘সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা না করে বিজেপিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন তপতী। সেটা সংগঠনের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। আমরা এককভাবেই লড়াই করব।’
যদিও এদিন জীবনকে কড়া হাতে কোন্দল মেটানোর বার্তা দিতে দেখা যায়নি। বরং তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো কেএসডিসিতেও কোন্দল থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলে দাবি করেছেন। জীবনের বক্তব্য, ‘আমাকে সবাই নাও মানতে পারেন। কারও অর্থের লোভ এবং আরও নানা বিষয় থাকতে পারে। সংগঠনের শৃঙ্খলা মেনে পদক্ষেপ হবে। তৃণমূল, বিজেপিতেও কোন্দল রয়েছে।’

