রায়গঞ্জ: আত্রেয়ী নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর এবার বিপদের আশঙ্কায় রয়েছে কুলিক নদীর বঁাধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুলিকের পশ্চিম পাড়ে লাগানো গাছ অবৈধভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে, ফলে বাঁধ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
দিনের আলোয় নির্বিচারে কাটা হচ্ছে বাঁধের উপর ও বাঁধের পাশের গাছ। ফলে বাঁধের মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে, ভারী বর্ষায় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। নদী বিশেষজ্ঞ ত্রিদীপ্ত ঘোষের মতে, ‘বাঁধের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণ জরুরি, অথচ এখানে উলটো গাছ কাটা হচ্ছে। আধুনিক ইলেকট্রিক করাত নিয়ে এসে গাছগুলোর গোড়া থেকে কেটে নিচ্ছে। একে দ্রুত থামাতে না পারলে আগামীতে করুণ অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।’
নদী নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন রায়গঞ্জের বাসিন্দা তথা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ রূপক পাল। তিনি জানান, ‘এমনটা একেবারেই অনাকাঙ্খিত। বঁাধে গাছ লাগানো নিয়ে নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের বোঝাতে হবে। মাটিকে ধরে রাখতে গাছের ভূমিকা জানে না বলেই ক্ষুদ্র প্রয়োজনে গাছ কাটছে। এক্ষেত্রে সেচ দপ্তর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোকে কাজে লাগাতে পারে।’
স্থানীয় মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃষা প্রামাণিক জানান, ‘বিষয়টি আমাদের নজর এড়িয়ে হচ্ছে। বন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেব।’
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কুলিক নদীর বাঁধ যে কোনও সময় ভেঙে যেতে পারে, যা রায়গঞ্জ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। প্রশাসন কি এখনই উদ্যোগ নেবে, নাকি বিপর্যয়ের পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে।

