বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, কুমারগঞ্জ: শনিবার মানেই হাফ ছুটি। তাড়াতাড়ি স্কুল শেষ করে বাড়ি ফিরে একটু ঘুম, তারপর খেলা। তবে গ্রাম হোক বা শহর, এখনকার খুদেরা অবশ্য ফোনেও ডুবে থাকে। তবে এইসব চেনা পরিচিত শনিবারগুলোর থেকে একেবারে অন্যভাবে কাটে ওদের শনিবার। ওদের মানে বিশ্বনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের। কুমারগঞ্জ (Kumarganj) ব্লকের মোহনা থেকে বাম দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভিতরে বিশ্বনাথপুর গ্রাম। গ্রামের বাসিন্দা আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে শনিবার যেন একটা উৎসবের দিন। গ্রামে ঢুকলেই শোনা যাবে, মাইকে ভেসে আসছে গান। আরেকটু এগোলেই রংবেরংয়ের জামা পরা খুদেদের নাচ, আবৃত্তি কিংবা নাটকের সংলাপে চোখ আটকাবে। গ্রামের প্রচুর মানুষ ভিড় করে উপভোগ করছেন সেই অনুষ্ঠান। কোনও একটি শনিবার নয়, প্রতি শনিবার করেই এমন আয়োজন হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির লক্ষ্য, এভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের সংস্কৃতিচর্চার দিকেও আকৃষ্ট করে তোলা।
শুধু পড়ুয়াদের উন্নতি নয়, কৃষিজীবী কিংবা খেতমজুরের পেশায় যুক্ত থাকা গ্রামের অধিকাংশ মানুষের কাছেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। দারিদ্র্য আর দৈনন্দিন সংগ্রামের কঠিন জীবনে প্রতিটি শনিবার তাঁদের কাছে মরুভূমিতে মরুদ্যানের মতোই। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জয়ন্তী রায় বলেন, ‘শনিবারের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ থাকে। গোটা সপ্তাহ ধরেই তারা ঠিক করে রাখে কে কীসে অংশ নেবে। নন্দিনী পাহান, মলি বর্মন, সুর্বনা বর্মন, রাখিমা খাতুন, জাকরিনা খাতুন, সোহানা খাতুন সহ ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত নাচ, গান ও অভিনয়ে অংশ নেয়।’ এই উদ্যোগে খুশি অভিভাবক মহম্মদ মোস্তফা মণ্ডল, খিরো পাহান, আসরাফ মণ্ডল ও পল্টু পাহানরাও। পল্টু বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা যেভাবে আমাদের ছেলেমেয়েদের এমন উদ্যোগে যুক্ত করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। পড়াশোনার পাশাপাশি ওরা একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হচ্ছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে ভালো লাগে।’

