শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

Lakshmir Bhandar scam | একজনের আধার কার্ডে অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ব্যাপক গরমিল

শেষ আপডেট:

হরষিত সিংহ, মালদা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বারংবার আবেদন বাতিল হচ্ছিল। কিন্তু কারণ বুঝতে পারছিলেন না শ্রাবণী দেব। শেষপর্যন্ত মে মাসে সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে আধার কার্ডের নম্বর দিয়ে সরকারি পোর্টালে সার্চ করে চক্ষু চড়কগাছ হয় তাঁর। বুঝতে পারেন, তাঁর আধার কার্ডে অন্য এক মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন।‌ এরপর তিনি দপ্তরের কর্মীদের জানালেও সমস্যা মেটেনি।

এখনও অন্য মহিলাটি তাঁর নামে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই শ্রাবণী মালদার সদর মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে সাড়া না দেওয়ায় এইব্যাপারে মহকুমা শাসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মালদার জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়া বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, দ্রুত তদন্ত হবে।’

শ্রাবণী ইংরেজবাজার শহরে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী শিবু ঘোষ সরকারি হোমের অস্থায়ী কর্মী। ভোটার কার্ডে নামের সমস্যা থাকায় প্রথমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাননি। পরে ২০২১ সালে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে নথিপত্র ঠিক করে আবেদন করেন। কিন্তু তা বাতিল হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পুনরায় ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে গিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু এবারও আবেদন বাতিল হয়।

বারংবার বাতিল হওয়ার কারণ খুঁজতে সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, আধার কার্ড তাঁর হলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন অপর এক মহিলা। এরপর তিনি  সমাজকল্যাণ দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের বিষয়টি জানান। দপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করতে বলা হয়। শ্রাবণী জানান, এরপর অভিযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি। একাধিকবার অফিসে গেলেও কোনও সুরাহা হয়নি।

বারংবার ঘুরে দপ্তরের সাড়া না পেয়ে তিনি সদর মহকুমা শাসককে জানান। শ্রাবণী দেব বলেন, ‘অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। ‌আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা চাই। আমার আধার নম্বরে অন্য একজনের টাকা পাওয়া যেন দ্রুত বন্ধ করা হয়।’ কালিয়াচকের নয়াগ্রামেও এক তরুণের আধার কার্ড ব্যবহার করে এক মহিলার অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমার অভিযোগ সামনে এসেছে।

ওই তরুণের বাবা কালিয়াচকের বাসিন্দা মহম্মদ আমানুর রহমান কয়েকদিন আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে স্ত্রীর তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, তাঁর মোবাইল নম্বরে তাঁর স্ত্রী ও ছেলের আধার কার্ড যুক্ত। দুইজনের নামেই টাকা জমা পড়ছে। স্ত্রীর বিষয়টি ঠিক থাকলেও ছেলের আধার কার্ডে অন্য মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি কালিয়াচক থানায় ও বিডিওর কাছে অভিযোগ জানান।‌

মহম্মদ আমানুর বলেন, ‘একজন ছেলের আধার কার্ডে কী করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকে? পেছনে নিশ্চয়ই কোনও অসাধু চক্র রয়েছে। এবিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি।’ তবে এব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালদার জেলা শাসক। তিনি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন।

Sandip Sarkar
Sandip Sarkarhttps://uttarbangasambad.com/
Sandip Sarkar Reporter based in Darjeeling district of West bengal. He Worked in Various media houses for the last 22 years, presently working in Uttarbanga Sambad as Sr Sub Editor.

Share post:

Popular

More like this
Related

Siliguri Police Attack Case | রাস্তার মাঝে বাইক দাঁড় করিয়ে মাতলামো! প্রতিবাদ করতেই ট্রাফিক পুলিশকে বেল্ট খুলে বেধড়ক মার শিলিগুড়িতে

শিলিগুড়ি: রক্ষকই খোদ আক্রান্ত! যাদের হাতে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা...

Jalpaiguri | রাজনীতির রং মিশিয়ে দোল কাটালেন নেতারা

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে যাঁরা নতুন তাঁরা...

WB Para Teacher Salary Delay | ‘ছেলেকে রং কিনে দিতে পারিনি’, বেতন না পেয়ে সমস্যায় শিক্ষক সহ কর্মীরা 

গৌরহরি দাস, কোচবিহার: উৎসবের মধ্যেও বেতন পেলেন না জেলার...

Alipurduar Municipality | ‘খাস লোক’ তত্ত্বে তোলপাড়, আলিপুরদুয়ার পুরসভায় বিতর্ক 

দামিনী সাহা, আলিপুরদুয়ার: কাগজে-কলমে তিনি আলিপুরদুয়ার পুরসভার (Alipurduar Municipality)...