ময়নাগুড়ি: রীতিমতো যেন ব্যবসা। কোথাও জাতীয় সড়কের পাশে নালা কিংবা জলাশয় বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। এরপর সেখানে দোকান, বাড়িঘর তৈরি করা হচ্ছে। আবার কোথাও সরকারি জমি দখল করে কোনওরকম কাগজপত্র ছাড়াই আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কারও কাছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ফিট হিসেবে। আবার কোথাও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ফিটে অবাধে চলছে বেচাকেনা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সেখানে ময়নাগুড়ি থেকে মালবাজারগামী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে এভাবে জমি দখল হতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে। যদিও ওই সমস্ত দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের মালবাজারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত ঠাকুর। তঁার কথায়, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। গত কয়েক বছরে এমন অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ময়নাগুড়ি, মালবাজার, মেটেলি সহ বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ বাবস্থাও গ্রহণ করেছে। তবে আগামীতে আমরা এই সমস্ত অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ময়দানে নামব। দখলদারদের নোটিশ দেওয়ার পর উচ্ছেদ করা হবে।’
নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ময়নাগুড়ি ও ক্রান্তি ব্লকজুড়ে সরকারি জমি দখল করে বেচােকনার কারবার চলছে। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’পাশের জমি দখল করে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। কোনও কাগজপত্র ছাড়াই বাবস্যায়ী নিজেদের মতো করে জলাশয় কিংবা নালাগুলি দখল করে একের পর এক ঘর, দোকান গড়ে তুলেছে। এতে একদিকে যেমন বর্ষায় নিকাশিনালা বন্ধ হয়ে জল জমার সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেমনি আগামীদিনে জাতীয় সড়ক চওড়া করতে হলে ওই সমস্ত দখলদারিদের তুলতেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে প্রশাসনকে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ময়নাগুড়ি শহরের চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেমন্ত রায় বলেন, ‘৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজট হয়। জাতীয় সড়কের পাশে জায়গা দখল হয়েছে। ফুটপাথ পর্যন্ত নেই অনেক জায়গায়। অবিলম্বে সেই সমস্ত জায়গা দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।’
তাই আগামীতে যাতে জায়গাগুলো দখল কিংবা সেখানে কংক্রিটের কোনও নির্মাণ না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। কোথায় কোন কোন জায়গা দখল হয়েছে তা নিয়ে একটি সার্ভেও ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। মৌলানি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রঞ্জিত রায় বলেন, ‘যে সমস্ত জায়গা দখল হয়ে রয়েছে অবিলম্বে সেগুলো দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তাদেরকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।’

