উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : আসন্ন নির্বাচনের রণকৌশলে বড়সড় বদল আনল বামফ্রন্ট। এক সময়ের দুর্গ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি মহকুমা এবং সংলগ্ন বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে নিজেদের জমি পুনরুদ্ধার করতে এবার পুরোনো এবং পরীক্ষিত মুখদের ওপরই বাজি ধরল আলিমুদ্দিন।
শিলিগুড়িতে কঠিন চ্যালেঞ্জ
শিলিগুড়ি আসনে দীর্ঘ ২২ বছর মন্ত্রী থাকা বর্ষীয়ান অশোক ভট্টাচার্যের যুগ শেষ হতে চলেছে। বয়সের কারণে তিনি এবার নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে সিপিআইএম প্রার্থী করেছে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয় চক্রবর্তীকে। ছাত্র-যুব আন্দোলনের হাত ধরে উঠে আসা জয়বাবু দলের মধ্যে মৃদুভাষী এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। ২০২১-এর ভরাডুবির পর এবার বিধানসভায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় জয়ের কাঁধেই গুরুভার তুলে দিল দল।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে দিলীপ সিং
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে দলের পুরনো সৈনিক দিলীপ সিং-এর ওপরেই ফের ভরসা রাখা হয়েছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া এই সংগঠক আগেও এই আসনে লড়াই করেছেন। যদিও গতবার সাফল্য আসেনি, তবে এবার হারানো জমি ফিরে পেতে দিলীপবাবুর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করছে বামেরা।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে কৃষক মুখ
তরাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ আসন মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে এবার লড়াই করবেন দলের কৃষক নেতা ঝড়েন রায়। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের প্রাক্তন সহকারি সভাধিপতি হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আদিবাসী ও রাজবংশী ভোট ব্যাংকে ঝড়েনবাবুর ব্যক্তিগত প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এবার নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চাইছে সিপিআইএম।
এক নজরে বামেদের রণক্ষেত্র:
- শিলিগুড়ি: জয় চক্রবর্তী (কাউন্সিলর)
- ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি: দিলীপ সিং (প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান ও অভিজ্ঞ সংগঠক)
- মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি: ঝড়েন রায় (কৃষক নেতা ও মহকুমা পরিষদের প্রাক্তন পদাধিকারী)
রাজ্যে পালাবদলের পরও শিলিগুড়ির মডেল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রেখেছিল বামেরা। তবে ২০২১ পরবর্তী সময়ে বিজেপির উত্থান এবং তৃণমূলের দাপটে ক্রমশ কোণঠাসা হতে হয়েছে তাদের। এবারের এই লড়াই বামেদের কাছে কেবল আসন জেতা নয়, বরং পাহাড়-সমতলের এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিজেদের সাংগঠনিক অস্তিত্ব প্রমাণের মরণ-বাঁচন লড়াই।

