বেলাকোবাঃ এবার চিতাবাঘের আতঙ্ক জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানে। বৃহস্পতিবার চা বাগানের চার নম্বর সেকশনের নালায় একটি গবাদিপশুর দেহাংশ পড়ে থাকতে দেখে বাগানের চা শ্রমিকরা। সেই সময়ই তাঁরা লক্ষ্য করেন একটি চিতাবাঘকে পালিয়ে যেতে। এরপরেই চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিকারপুর চা বাগানে।
বাগান ম্যানেজার প্রসুন চক্রবর্তী জানান, কয়েক দিন ধরে একটি চিতা বাঘ বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানানো হয়েছে বেলাকোবা পুলিশ ফাঁড়ি ও বেলাকোবা বনদপ্তরকে। পুলিশ ও বনদপ্তরের কর্মীরা শুক্রবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে বাগান শ্রমিক বিনা ধোবি বলেন, ‘আজ সকালে বাগানের কাজে যাওয়ার সময় তিনি শুনতে পান একটা গোরুকে চিতাবাঘে মেরেছে। চার নম্বর সেকশনে গিয়ে দেখি মৃত গোরুটা আমার।’
এদিন চিতাবাঘ বেরোনোর খবর পেয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তিনি বনদপ্তরের বেলাকোবা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসারকে ফোন করে দ্রুত চিতা বাঘটিকে জাল অথবা খাঁচা পেতে ধরার উদ্যোগ নিতে বলেন। বাগিচা শ্রমিক বিনোদ ওরাওঁ বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরেই বাগানের ভেতরে চিতাবাঘের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাগানের ভেতরেই আমাদের বাড়ি, ছোট ছোট বাচ্চারা রয়েছে। এই অবস্থায় কাজ করা তো দূরের কথা, যেকোনও মুহূর্তে বড় বিপদ ঘটতে পারে। আমাদের দাবি, চিতাবাঘটিকে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিক বনদপ্তর।”
বাগিচা সহকারী ম্যানেজার অতীন সান্যাল বলেন, “বাগানে চিতা বাঘের আতঙ্ক রয়েছে। তবে আমরা চা শ্রমিকদের সচেতন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বাগানে নজর রাখা হচ্ছে।”
রেঞ্জার বলেন, খবর পেয়ে বনদপ্তর কর্মীরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে। সেই সঙ্গে এলাকায় সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সন্ধ্যার সময় বাগানে একলা না যাওয়া, বাগানে কাজ শুরুর আগে টিন বাজিয়ে শব্দ করা অথবা শব্দবাজি ফাটানো এবং বাগানে বাচ্চাদের যেতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বনকর্মীরা।

