এম আনোওয়ারউল হক ও সেনাউল হক, বৈষ্ণবনগর ও কালিয়াচক: বাজারে দেখা মিলতে শুরু করেছে জনপ্রিয় মরশুমি ফল লিচুর। কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন বাজারে লিচু বিক্রি হচ্ছে। তবে এবছর কালিয়াচকের লিচুর ফলন অত্যন্ত কম। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার জন্য প্রচুর লিচু ঝড়ে নষ্ট হচ্ছে। কালিয়াচকের (Kaliachak) লিচু এবার বাঙালির পাতে ওঠাতে হলে চড়া দামে কিনতে হবে বলেই মনে করছেন লিচুচাষিরা।
সাধারণত প্রতিবছর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত নানা জাতের লিচুতে ভরে যায় মালদার কালিয়াচকের বিভিন্ন বাজার। শনিবার সকাল থেকেই বাজারে আসতে শুরু করেছে গুটি জাতের লিচু।


তবে গুটি লিচুতে সবেমাত্র রং ধরতে শুরু করেছে। তাই বাজারে এখন যেসব লিচু পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই সবুজাভ। আকারেও কিছুটা ছোট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আসা মৌসুমির প্রথম দিকের চালানগুলো ভালো দাম পাওয়ার আশায় সম্পূর্ণভাবে পাকার আগেই লিচু বিক্রি করে দেন বেশির ভাগ বাগানমালিক।
এবছর লিচুর ‘অফ ইয়ার’। এদিন অনেক বাগানে গিয়ে দেখা যায় লিচুর তেমন ফলন নেই। বহু বাগান একদম ফাঁকা পড়ে রয়েছে। তার মধ্যে কোনও কোনও বাগানে লিচু উৎপাদন মোটামুটি হয়েছে। কালিয়াচকের যেসব জায়গায় বেশি লিচুর বাগান রয়েছে, তার মধ্যে করারী চাঁদপুর,খাস চাঁদপুর, সুলতানগঞ্জ, শিলামপুর, আলিপুর, যদুপুর, মোজমপুর, শেরশাহী সহ বিভিন্ন এলাকার বাগান গুলিতে অর্ধেকের কম লিচুর ফলন হয়েছে।
লিচুচাষি ইসলাম শেখের কথায়, ‘এবার গুটি আসার সময় তীব্র দাবদাহে কিছু লিচু ঝরে পড়েছে। বেশ কিছু বাগানে ক্ষতি হয়েছে। গুটি লিচু পাকতে শুরু করছে। লিচুর ফলন কম হওয়ায় এবার দাম একটু বেশিই পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’
বৈষ্ণবনগর বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার বলেন, ‘এখন বেশিরভাগ লিচু কিছুটা অপরিপক্ব হওয়াতে ভরা মৌসুমের মতো মিষ্টি স্বাদের নয়। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে বোম্বাই লিচু আসবে, সেগুলো আকারে বড় হবে এবং খেতেও মিষ্টি হবে।’
আবদুল জব্বার এখন দিনে ৫ থেকে ৬ হাজার লিচু বিক্রি করেন। ভরা মৌসুমে ১০ হাজারের বেশি বিক্রির আশা করছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর বাজারে লিচু কিনছিলেন আবেদ মাহমুদ। ১০০টি গুটি জাতের লিচু কিনলেন ৩৫০ টাকায়। কথায় কথায় তিনি জানালেন, ‘এখন বেশিরভাগ লিচু খেতে পুরোপুরি মিষ্টি নয়। তাও বাসায় মা ও ছোট মেয়ে খেতে চেয়েছে বলে কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, জেলায় সর্বাধিক লিচুর চাষ হয় কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকে। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের উদ্যোগে লিচু চাষের জমি বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় লিচু চাষের জমি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০০ হেক্টর।
জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের উপঅধিকর্তা সামন্ত লায়েক জানান, ‘এবার লিচুর ‘অফ ইয়ার’। স্বাভাবিকভাবে লিচুর ফলন কম। কিন্তু এবছর গুটি লিচু বোম্বাই লিচুর থেকে ভালো হয়েছে।’
তবে লিচুর উৎপাদন কম হলেও চাষিরা ভালোই দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

