রাজু সাহা, শামুকতলা: সোমবার ৩১সি জাতীয় সড়কে লম্বা যানজট তৈরি হয়। অসম সীমানা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় আলিপুরদুয়ার জেলার বারবিশা থেকে দমনপুর পর্যন্ত কয়েকশো গাড়ি আটকে থাকে। অসম সীমানার পাকরিগুড়ি থেকেও দমনপুর পর্যন্ত গাড়ির লাইন ছিল বেশ বড়। সকাল ছ’টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত অসমে ভিনরাজ্যের গাড়ি ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই যানজট তৈরি হয়। অধিকাংশ গাড়ির চালকদের অভিযোগ, সীমানা বন্ধ থাকার আগাম কোনও বার্তা তাঁরা পাননি। তাঁদের খাওয়া ও স্নানের খুব অসুবিধা হয়েছে।
দূরপাল্লার ট্রাক তো বটেই, যাত্রীবাহী বাসও ওই যানজটে আটকে থাকে। ট্রাকচালক ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বিহারের বাসিন্দা ট্রাকচালক সুনীল যাদব বলেন, ‘সকাল ছ’টায় মহাকাল চৌপথিতে এসে আর এগোতে পারিনি। বিকেল চারটা পর্যন্ত এখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। আগে থেকে যদি জানতাম এদিন গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না, তাহলে কোনও ধাবার সামনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়াতাম।’


সোমবার গুয়াহাটিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার একটি সরকারি অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই অসম সরকার নিজেদের রাজ্যে গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গের দিক থেকে আসা কোনও গাড়িই কোকরাঝাড় জেলা দিয়ে অসমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অসম পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, এদিনের অনুষ্ঠানের কথা ভেবে অসম পুলিশ আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশকে অসমে গাড়ি না ছাড়ার অনুরোধ করে। পাশাপাশি অসম পুলিশও সকাল ছ’টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত রাজ্য সীমানা বন্ধ রাখে। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলি অসমে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে অসম থেকে আলিপুরদুয়ারে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন বিনোদ সরকার। সোমবার তিনি অসমে ফিরতে গিয়ে যানজটে আটকে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অসমে গাড়ি ঢুকতে দেবে না জানলে রবিবারই ফিরে যেতাম।’
অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী চলে গেলে সমস্ত গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। বিকেল চারটার পর থেকে অসম সীমানা দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিকেলে সীমানা খুললেও রাত আটটা পর্যন্ত যানজট থেকে রেহাই মেলেনি। আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ দিনভর যানজট নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সড়কে কড়া নজরদারি রাখে।

