বর্ধমান: বইমেলার (Burdwan book fair) প্রবেশদ্বারে থাকা দেবাদিদেব মহাদেবের মূর্তি সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হল পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সেহারা বাজার। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে প্রতিবাদে সরব হন হিন্দুত্ববাদীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত জনসুরক্ষার যুক্তি দিয়ে এবং মহাদেবের ফ্লেক্স বসিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটালেন মেলা আয়োজকরা।
মূর্তিকে ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত
বই পড়ায় উৎসাহ বাড়াতে গত ২৫ বছর ধরে সেহারা বাজারে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই বইমেলা। গত ৬ জানুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণভাবে মেলার উদ্বোধন হয়। মেলার মূল আকর্ষণ ছিল প্রবেশদ্বারের ওপরে বসানো দেবাদিদেব মহাদেবের এক প্রকাণ্ড ও সুদৃশ্য মূর্তি। উদ্বোধনের দিন ভিড় উপচে পড়লেও বিপত্তি ঘটে মেলার দ্বিতীয় দিনে। স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন, তোরণের ওপর থেকে হঠাৎ করেই মহাদেবের মূর্তিটি গায়েব হয়ে গিয়েছে।
হিন্দুত্ববাদীদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
মূর্তি সরিয়ে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রায়না এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। সুভাষ পাত্র, কৌশিক আশ এবং তন্ময় দে-দের নেতৃত্বে সরব হন হিন্দুত্ববাদীরা। তাঁদের অভিযোগ, হিন্দুদের আরাধ্য দেবতার মূর্তি এভাবে সরিয়ে নেওয়া হিন্দু সমাজের কাছে অপমানজনক। তাঁরা দাবি তোলেন, ১০ জানুয়ারির মধ্যে মহাদেবকে সসম্মানে তাঁর জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্যথায় বড়সড় আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। এই বিতর্কে সুর চড়িয়ে জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “বাংলার হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতিতে আঘাত করা হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
আয়োজকদের সাফাই ও সমাধান
বিতর্ক হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ময়দানে নামেন বইমেলা কমিটির সভাপতি সনৎ দে। তিনি যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণ নেই। সনতবাবুর দাবি, “মূর্তির ওজন অত্যন্ত বেশি হওয়ায় প্রবেশদ্বারের কাঠামোটি ঝুঁকে পড়ছিল। মেলায় আসা হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই ওই ভারী মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বড় কোনও দুর্ঘটনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত।”
অবশেষে শুক্রবার মেলার প্রবেশদ্বারের ওপরে মহাদেবের ছবি সম্বলিত একটি সুসজ্জিত ফ্লেক্স লাগিয়ে দেওয়া হয়। আয়োজক এবং প্রতিবাদী দুই পক্ষই এই সিদ্ধান্তে আপাতত সম্মত হওয়ায় প্রশাসনের দুশ্চিন্তা কেটেছে।

