শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

Madarihat | মাহুতদের স্নেহে বড় হচ্ছে লাকি

শেষ আপডেট:

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : মাহুতকে ফিডিং বোতলে গুঁড়ো দুধ আনতে দেখলেই ছুটে আসছে ‘সে’। ‘সে’ অর্থাৎ ‘লাকি’, গত দুর্যোগে মেচি নদীতে ভেসে যাওয়া যে হস্তীশাবকটির নামকরণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বনকর্তারা জানাচ্ছেন, খাওয়াদাওয়ার পর ঘুম দেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে সেটির। বাকি সময়টা কেটে যাচ্ছে মাহুতদের সঙ্গে খুনশুটি করে। হলং সেন্ট্রাল পিলখানায় সকলের পরিচর্যা ও আদরে বড় হয়ে উঠছে হস্তীশাবকটি।

নদীতে ভেসে যাওয়ার সময় শাবকটির বয়স ছিল মাত্র ১৫ দিন। এই বয়সের হস্তীশাবকটিকে মাতৃস্নেহে বড় করে তুলছেন জলদাপাড়ার অভিজ্ঞ দুজন মাহুত ফারুক ইসলাম ও নির্মল কুজুর। বর্তমানে সেটির বয়স ৪০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি প্রাণী চিকিৎসক উৎপল শর্মার চিকিৎসা ও বনকর্তাদের নজরদারিতে অনেকটাই বিপন্মুক্ত সে।

বনকর্তাদের বয়ান অনুযায়ী, খাবারের প্রতি তেমন কোনও অনীহা নেই মাদি হস্তীশাবকটির। লাকির সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য, ফিডিং বোতলে গুঁড়ো দুধ। মাহুতরাও সেটিকে জড়িয়ে ধরে আদর করেন। দৃশ্যত মনে হয়, যেন বাবা-মেয়ের খুনশুটি চলছে। জলদাপাড়ার বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাশোয়ান বললেন, ‘শাবকটি স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে আইসোলেশন সেন্টার থেকে বের করে একটু জঙ্গলের পরিবেশে রপ্ত করানো হচ্ছে।’

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক ডঃ নবিকান্ত ঝা জানালেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত লাকির ওপর নজর রাখা হয়। নিয়মিত শরীরের পরীক্ষাও করানো হয়। তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘হলং সেন্ট্রাল পিলখানায় অন্য দুই অনাথ শাবক গজরাজ ও তিস্তারানিও রয়েছে। কিন্তু ওরা অনেকটাই বড়। সেইজন্য ওকে এখনও ওদের কাছে নেওয়া হয়নি।’

প্রাণী চিকিৎসক উৎপল শর্মা বললেন, ‘শাবকটি অনেকটাই ভালো রয়েছে। তবে, মানুষের বাচ্চা যেমন অসুস্থ হয়, তেমনি হাতির শাবকেরও অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ওরা যেহেতু কথা বলতে পারে না, তাই লাকিকেও মানুষের বাচ্চার মতোই পরিচর্যা করা হচ্ছে।’

বিভাগীয় বনাধিকারিক বলেন, ‘যে কোনও হস্তীশাবককে মায়ের দুধ ছাড়া বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়। তবে আমাদের পরিকাঠামো যথেষ্ট মজবুত থাকায় আমরা এখন পর্যন্ত এব্যাপারে ৯৯ শতাংশ সফল।’

মাহুত ফারুক ইসলাম বলেন, ‘লাকিরা আমাদের সন্তানের মতোই। ওরা অবোলা প্রাণী। কথা বলতে পারে না। সেইজন্য ওদের প্রতি বেশি যত্নশীল হতে হয় আমাদের। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত ওর সঙ্গেই থাকি। আত্মীয়পরিজনদের বাড়ি যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর ওইটুকু দুধের শিশুকে একা ফেলে যেতেও মন চায় না।’ এভাবেই জলদাপাড়ায় সকলের নয়নের মণি হয়ে উঠছে একরত্তিটি।

Web Desk
Web Deskhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad is leading online news publisher in West Bengal. Every single article post checked after verify and fact checking by our own staff.

Share post:

Popular

More like this
Related

Malda | ‘পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির’, বিস্ফোরক তৃণমূল বিধায়ক

সামসী: পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির।...

Falakata Municipality | বড়দিনে ‘বড়’ উপহার ফালাকাটার, সাড়ে ১০ কোটিতে ২১৩টি কাজ পুরসভার

ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: ফালাকাটার নাগরিকদের বড়দিনের উপহার দিল পুরসভা।...

Deshbandhu Para Shris Ch. Primary School | পড়ুয়া মাত্র ১৭, ধুঁকছে শ্রীশ চন্দ্র প্রাথমিক স্কুল

ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: প্রতিষ্ঠার পর কেটে গিয়েছে ৫৩ বছর।...

Tufanganj hospital | রোগীর পাশে কুকুর-বিড়াল, উদাসীনতার ছবি তুফানগঞ্জ হাসপাতালে

বাবাই দাস, তুফানগঞ্জ: রোগীর বেডের নীচে তিড়িংবিড়িং করে ঘুরে...