এম আনওয়ারউল হক, মালদা: নিয়মশৃঙ্খলাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মদ্যপ অবস্থায় (Student Drunk) মাধ্যমিকের (Madhyamik Exam 2026) মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিতে এল এক পরীক্ষার্থী। মালদা শহরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার প্রথম দিন এমন ঘটনা ঘটল। বাংলা পরীক্ষার দিনেই এমন কাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তিনতলা ভবনের একটি ঘরে পরীক্ষা চলাকালীন এক শিক্ষিকার নাকে তীব্র মদের গন্ধ আসায় ওই পরীক্ষার্থীর ওপর তাঁর সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আধিকারিকদের জানান। এরপর পরীক্ষার্থীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে স্বীকার করে যে, পরীক্ষা দিতে আসার আগে সে মদ্যপান করেছিল। পরীক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই পরীক্ষার্থীকে তখন ঘরের শেষের দিকে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে এমন আচরণে কেন ওই ছাত্রটির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়।
ওই পরীক্ষার্থী মালদা (Malda News) শহরেরই বাসিন্দা। শহরের একটি নামী স্কুলের ওই ছাত্র অপর একটি স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। সেখানেই সে মদ্যপ অবস্থায় আসে। তবে ঘটনার পর ওই পরীক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি ওই ছাত্র যে স্কুলে পড়ে সেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। সেই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক ঘটনার পর ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে আসেন। পরীক্ষার্থীকে মৃদু বকুনি দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেন।
এই ঘটনায় শিক্ষা মহলে এবং অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় এমন ঘটনা কাম্য নয় বলেই মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেক্ষেত্রে আরও কিছুটা সতর্কতা অবলম্বনের দরকার ছিল বলে জানাচ্ছেন সমাজকর্মী হাসিনা পারভিন বানু। তিনি বলেন, ‘মাধ্যমিক পরীক্ষা কোনও তামাশা নয়। পরিবার, স্কুল এবং প্রশাসন নিজের দায়িত্ব এড়ানোর ফলেই এমন ঘটনা ঘটছে।’ অন্যদিকে প্রবীণ শিক্ষক অভিজিৎ আচার্য বলেন, ‘এটি নিছক শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, এটি ওই পরীক্ষার্থীর জন্যও ক্ষতিকর।’

