Mal Bazar | দপ্তর খোলে না, তবু নয়া অফিস চাই বুলুর

শেষ আপডেট:

অভিষেক ঘোষ, মালবাজার: আর কয়েক মাস পরেই তো তাঁর মন্ত্রিত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। একেবারে শেষমুহূর্তে এসে আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী বুলু চিকবড়াইকের (Bulu Chik Baraik) মনে হয়েছে, মালে (Mal Bazar) তাঁর জন্য একটি বিধায়কের অফিস বানানো প্রয়োজন। সেজন্য মাল পুরসভার কাছে মৌখিকভাবে জায়গা চেয়েছেন তিনি। জায়গা চেয়েছেন মন্ত্রী হওয়ার সাড়ে চার বছর কাটিয়ে ফেলার পরে।

মালে বিধায়কের কোনও অফিস নেই ঠিকই, তবে বুলুর জন্য কোনও অফিসই নেই একথা কিন্তু ঠিক নয়। কারণ মেটেলিতে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের একটি অফিস তো রয়েছে। সেখানে কি নিয়মিত বুলুকে দেখা যায়? স্থানীয়রা বলছেন, বছরে একদিন নাকি সেই অফিস খোলা হয়। করমপুজোর আগে ধামসা-মাদল বিলি করার জন্য। এবছর নাকি সেটাও হয়নি। এবিষয়ে বুলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মেসেজের উত্তর দেননি।

মন্ত্রী বুলু চিকবড়াইক তৃণমূল কংগ্রেসের দু’বারের জয়ী প্রার্থী তথা বিধায়ক হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও স্থায়ী বিধায়ক কার্যালয় নেই মালবাজার শহরে। ভোট এলে অস্থায়ী নির্বাচনি কার্যালয় তৈরি হয়। ভোটের পর সেই অফিসের কোনও অস্তিত্ব থাকে না। জনগণকে যে কোনও কাজ করাতে হলে যেতে হয় বুলুর রাঙ্গামাটি চা বাগানের বাড়িতে। বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীর অভিযোগ, অনেক সময় বিধায়কের বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায় না। ছোটখাটো কাজের জন্য একাধিকবার যেতে হয়। বেশ কিছু সরকারি কাজে বিধায়কের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সেই কাগজপত্র নিয়ে সবাইকে যেতে হয় মন্ত্রীর বাড়িতে। সম্প্রতি বুলু যে মালে অফিস বানাতে চাইছেন, সেজন্য কোনও লিখিত আবেদন পুরসভায় জমা পড়েনি। সব আলোচনা হয়েছে মৌখিকভাবে। পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি বলেছেন, ‘মন্ত্রী একটি জায়গা চেয়েছেন অফিসের জন্য। সেই বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে পুর আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করব।’

তৃণমূলের মাল গ্রামীণ ব্লক সভানেত্রী জীতনি মাহালি অবশ্য দাবি করেছেন, ‘মন্ত্রীর বাড়িতে গেলে কেউ কাজ না করিয়ে ফিরে আসে না। তিনি থাকলে অবশ্যই সেই কাজটি করে দেন।’ তবে এত বছরে প্রাক্তন ব্লক সভাপতি কেন বিধায়কের অফিস তৈরি করতে পারেননি, সেবিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জীতনি। আর মাল টাউন সভাপতি পুলিন গোলদার জানান, এত বছর বিধায়কের অফিস না থাকাটা দলের ব্যর্থতা। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব।

এদিকে, মেটেলি ব্লকের সাতখাইয়া এলাকায় সমন্বিত উপজাতি উন্নয়ন সংস্থা বা আইটিডিএ ভবন তৈরি হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। পরবর্তীতে বুলু মন্ত্রী হতেই সেখানে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের বোর্ড লাগানো হয়। যেখানে স্পষ্ট লেখা আছে, সেটা স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কার্যালয়। তার আগে সেখানেই ছিল কোভিড রোগীদের অস্থায়ী শেলটার। সেখানে মন্ত্রীর দপ্তরের বোর্ড লাগানো হলেও বছরে একবার সেই অফিস খোলা হত। এখন তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ঘাস এবং আগাছায় ঢেকেছে ভবনের প্রবেশপথ। লোহার প্রবেশদ্বারে মরচে পড়েছে। সরকারি ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে নজর নেই ব্লক প্রশাসনেরও। সিপিএমের মাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাজা দত্ত বলেন, ‘শাসকদলের বিধায়কের একটি অফিস নেই এটাই তো হাস্যকর বিষয়।’ আর বিজেপির জেলা সম্পাদক রাকেশ নন্দীর কটাক্ষ, ‘বিধায়ক প্রতি মুহূর্তে জনগণের পরিষেবা দিতে ব্যর্থ। সেজন্য তাঁর অফিস নেই।’

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

Raiganj Domestic Violence | ‘ভালোবাসা ফুরিয়েছে, আর ঘর করা সম্ভব নয়’, চিঠি লিখে স্বামী সংসার ছাড়লেন বধূ! রায়গঞ্জে তুলকালাম

রায়গঞ্জ: "ভালোবাসা করে বিয়ে করেছিলাম, সেই ভালোবাসাই বুঝি ফুরিয়ে...

NBMCH | ক্যামেরা আছে কিন্তু চোখ নেই! উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে নিরাপত্তা প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ টাকা কি ‘হাওয়া’?

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: আরজি কর কাণ্ডের পরে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল...

NBSTC | অচল হওয়ার মুখে এনবিএসটিসি! সরকারি এক নির্দেশিকায় কি থমকে যাবে উত্তরবঙ্গের চাকা?

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার: অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুনর্বহালের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের...