Mal Municipality Water Crisis | মালের পানীয় জলপ্রকল্প বিশবাঁও জলে! আম্রুত ২-এর বরাদ্দ ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন, শীতেই হাহাকার

শেষ আপডেট:

অভিষেক ঘোষ, মালবাজার: শীতের শুরুতেই জলসংকট শুরু হয়েছে মালে (Mal Bazar)। শহরের পানীয় জলপ্রকল্প (Mal Municipality Water Crisis) এখনও বিশবাঁও জলে। কেন্দ্রীয় সরকারের আম্রুত ২ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে রাজ্য সরকারের কাছে বরাদ্দ চাইল মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট। পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি জানিয়েছেন, নতুন ডিপিআর জমা দেওয়া হয়েছে রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তরে। তিনি বলেন, ‘কেন কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ দিচ্ছে না, সেই বিষয়ে আমরাও অন্ধকারে।’

মাল পুরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১, ২, ৬, ৭, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর এই ৯টি ওয়ার্ডে ফি বছর পানীয় জলের হাহাকার থাকে। শীতের শুরুতে জলসংকট এখনও সেভাবে না হলেও ওয়ার্ডে দিনে মাত্র একবার কলে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি, মার্চ মাসে পুরসভা বেশ কিছু ওয়ার্ডে জলের ট্যাংক পাঠিয়েছিল। এই জলের সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রীয় জল জীবন মিশনের অধীনে আম্রুত প্রকল্পের সূচনা হয় গোটা দেশে। প্রতিটি পুরসভা, পুরনিগমকে দেওয়া হয়েছিল উপযুক্ত বরাদ্দ। আম্রুত ১ প্রকল্পে ৪৪ কোটি টাকা পেয়েছিল মাল পুরসভা। সে সময় সম্পূর্ণ খরচ দেখিয়েছিল পুরসভা। বাস্তবে দেখা গিয়েছে, বেশ কিছু ওয়ার্ডে রাস্তা খুঁড়ে লোহার পাইপ বসানো হয়েছিল। জাতীয় সড়কের একদিকেও পাইপলাইন করা হয়েছিল। এখনও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে লোহার পাইপ। অধিকাংশ পাইপ পড়ে আছে কলোনি ময়দানে। কয়েকশো বাড়িতে জলের মিটার লাগানো হয়েছিল পরীক্ষামূলকভাবে। তার অধিকাংশই এখন বিকল। এছাড়াও জলের উৎস নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল সে সময়। প্রথমে নেওড়া নদীর জল ‘ওয়াটার সোর্স’ হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা ছিল পুরসভার। তবে নেওড়া নদী থেকে জল পাইপলাইনের মাধ্যমে ট্যাংকে পৌঁছানো একপ্রকার বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারদের। পরবর্তীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল এসে গবেষণা করে যাওয়ার পর মাল নদীকে ‘জলের উৎস’ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আচমকাই আম্রুত ২ প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের তরফে সমীক্ষা করে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন দপ্তরে। প্রায় ৪৭ কোটি টাকার ডিপিআর করে পাঠানো হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে। জলপাইগুড়ি জেলার মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আশিস দাস বলেন, ‘রাজ্য সরকারের সবুজ সংকেত এলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

পানীয় জলের সংকটের (Water Crisis) জন্য অনেকেই দায়ী করেছেন অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খননকে। মূলত চেল, ঘিস, লিস, নেওড়া, মাল নদীতে অবৈধ নদী খননের জন্য প্রভাব পড়ছে শহরের জলস্তরে। সেইসঙ্গে প্রচুর চা বাগান শীতের সময়ে সেচের জন্য নির্ভর থাকে নদীর ওপর। সাধারণভাবে প্রবাহিত নদীর জল চা বাগানে নেওয়া হলেও বেশ কিছু বাগান নদীর গতিপথ আটকে ৯০ শতাংশ জল বাগানের কাজে ব্যবহার করছে। এই বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কড়া পদক্ষেপ করেনি সেচ দপ্তর। পানীয় জলের সংকট নিরসনে তিনটি বোরিং করা হয়েছিল। যার মধ্যে দুটো বোরিং ব্যবহার করে জল পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বোরিং করা হলেও সেটা অসফল হয়।

তবে ভাইস চেয়ারম্যান মিলন ছেত্রী বলেন, ‘অনেকেই পানীয় জলকে আনুষঙ্গিক কাজে ব্যবহার করছেন। মোটর দিয়ে ট্যাংক ভরে রাখছেন, এতে বহু জায়গায় জলের বেগ কমে যাচ্ছে। জনগণকেও সচেতন হতে হবে।’ বিজেপির টাউন মণ্ডল সভাপতি নবীন সাহা বলেন, ‘সম্পূর্ণ পরিকল্পনাহীন প্রকল্প ছিল আম্রুত। জলের উৎসস্থল না পেতেই বাড়ি বাড়ি মিটার বসানো হয়েছিল, যে ইঞ্জিনিয়ার এই কাজের দায়িত্বে ছিলেন তাঁর ডিগ্রির বৈধতা নিয়ে সংশয় আছে।’

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

Balurghat | বালি পাচারের গাড়িতে গেরুয়া পতাকা! সিন্ডিকেটের ‘রংবদল’ ঘিরে শোরগোল

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: এ যেন এক অভিনব রং বদল।...

Buniadpur | চিনা ভাষায় স্ত্রীর নাম! বুড়িমায়ের পুজোয় বুনিয়াদপুরে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশল আধুনিকতার ছোঁয়া

অনুপ মণ্ডল, বুনিয়াদপুর: শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আর লোকবিশ্বাসকে ঘিরে সোমবার...