সামসী: বিধবা ভাতা নেই, বার্ধক্য ভাতা নেই, এমনকি পৌঁছায়নি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-ও। চাঁচল-২ ব্লকের মালতীপুর বিধানসভার (Malatipur) অন্তর্গত পুরাতন খানপুর গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হওয়ায় এবং গত পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেসকে সমর্থন (Villagers deprived govt schemes) করায় শাসকদলের নির্দেশে তাঁদের সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে শনিবার সরব হলেন গ্রামবাসীরা।
গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মহম্মদ সিরাজুদ্দিন জানান, “ছয়বার আবেদন করেছি বার্ধক্য ভাতার জন্য। পঞ্চায়েত, ব্লক এমনকি ‘দুয়ারে সরকার’-এ নথি জমা দিলেও ফল মেলেনি।” একই আক্ষেপ কোহিনুর খাতুন ও নিনোনি খাতুনের মতো মহিলাদেরও। তাঁদের অভিযোগ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য অন্তত কুড়ি বার আবেদন করলেও আজও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। তাঁদের সাফ কথা, “আমরা কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছি, তাই রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে আমাদের।”
গ্রামের কংগ্রেস সদস্য রাজীব আলির দাবি, তিনি কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছেন বলেই এই বুথে উন্নয়ন স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ব্লক অফিস ঘেরাও করা হবে।”
অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি। তাঁর দাবি, সরকারি প্রকল্প দল দেখে হয় না, সবাই নিয়ম মেনেই পান। চাঁচল-২ ব্লকের বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই, তবে তিনি গুরুত্ব সহকারে এটি খতিয়ে দেখবেন।

