মুরতুজ আলম,সামসী: একদিকে যখন দালালের খপ্পরে পড়ে বিপন্ন হয়ে উঠেছিল একরত্তি শিশুর জীবন, ঠিক তখনই মানবিকতার নজির গড়লেন চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক কর্মী। দালালের দেওয়া ভুল গ্রুপের রক্তের বদলে নিজের রক্ত দিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচালেন ফেসিলিটি ম্যানেজার। মালদার (Malda) চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এই ঘটনাটি বর্তমানে গোটা জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। রতুয়া-২ ব্লকের আসকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তজিবুর রহমানের এক বছর এক মাস বয়সী শিশুকন্যা সারমিন খাতুনকে তীব্র রক্তাল্পতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির প্রাণ বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ‘ও নেগেটিভ’ (O -ve) রক্ত প্রয়োজন। এই বিরল গ্রুপের রক্ত জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তজিবুর।


অভিযোগ, এই অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নেয় এক প্রতারক যুবক। ৩৫০০ টাকার বিনিময়ে রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সে। সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নিরুপায় বাবা সেই টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু অভিযোগ, ওই যুবক ‘ও নেগেটিভ’-এর বদলে ‘ও পজিটিভ’ গ্রুপের রক্ত এনে দেয় তজিবুরকে।
রক্তের গ্রুপে গরমিল দেখে সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়। তজিবুর রহমান বুঝতে পারেন, টাকার জন্য তাঁর শিশুর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভুল রক্ত গছিয়ে দিয়েছে ওই দালাল। তিনি তৎক্ষণাৎ চাঁচল থানায় অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়।
যখন বিরল গ্রুপের রক্তের অভাবে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছিল, তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন হাসপাতালেরই এক ফেসিলিটি ম্যানেজার। মানবিক খাতিরে তিনি নিজেই রক্ত দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন। তাঁর দেওয়া রক্তে অবশেষে প্রাণ বাঁচে এক বছরের সারমিনের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শিশুটি এখন অনেকটাই সুস্থ ও বিপন্মুক্ত।

