কল্লোল মজুমদার, মালদা: গত বছরের দুর্গাপুজো মোটেই ভালো কাটেনি সুধীর রবিদাস, হেমন্ত রবিদাসদের। কারণ পুজোর ঠিক আগে আগেই বাংলা বলার অপরাধে ভিনরাজ্যে আক্রান্ত হতে হয়েছিল বাঙালিদের। যা দেখে দুর্গাপুজোর মরশুমে মোটা টাকার বায়না পেলেও দিল্লি, মুম্বই কিংবা বিহারে যাওয়ার সাহস পাননি মালদার (Malda) ঢাকিরা। ফলে ওঁদের দুর্গাপুজো বিশেষ ভালো যায়নি। কিন্তু, সেই দুঃখ যেন খানিকটা লাঘব করেছে ভোট পার্বণ। মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে প্রচার, এবারের ভোটে সবেতেই ঢাকের চাহিদা তুঙ্গে। ফলে ভোট উৎসবে রীতিমতো লক্ষ্মীলাভ ঢাকিদের।
মালদা জেলার ইংরেজবাজার, মানিকচক, পুরাতন মালদায় হাজারখানেক রবিদাস সম্প্রদায়ের মানুষ থাকেন, যাঁদের পেশা পুুজোপার্বণে ঢাক বাজানো। সারাটা বছর সেই ঢাকিরা নিজেদের এলাকায় থাকলেও দুর্গাপুজোর সময় পাড়ি দেন দিল্লি, মুম্বই, হরিয়ানা সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। এই রাজ্যের চাইতে পুজোর ক’টাদিন সেখানে ঢাক বাজিয়ে খানিক বেশি আয় হয়। কিন্তু, গত পুজোয় দিল্লি, মুম্বই থেকে ডাক এলেও হেনস্তার ভয়ে যেতে পারেননি মালদার অধিকাংশ ঢাকি। তাই দুর্গাপুজোয় লক্ষ্মীলাভ হয়নি সেভাবে। কিন্তু এবার আশার আলো দেখাচ্ছে বাংলার বিধানসভা ভোট।
ইংরেজবাজারের যদুপুর গ্রামের ঢাকি সুকুমার রবিদাসের কথায়, ‘এবার বিজেপি ছাড়াও তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম, নির্দল প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় আমাদের ডাকছেন। ফলে আয় বেশ ভালোই হচ্ছে। একেই বলে ভোটে লক্ষ্মীলাভ।’ আরেক ঢাকি শ্যামল রজক বলেন, ‘শুধু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নয়, প্রতিদিন প্রচারের সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে ডাক পড়ছে আমাদের। ঢাক নিয়ে এমন প্রচার আগে দেখিনি কখনও।’
এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী লোকশিল্পী সংঘের জেলা সম্পাদক অদ্বৈত বিশ্বাসের মন্তব্য, ‘যে কোনও লোকসংস্কৃতি আমাদের রক্তে মিশে আছে। আর ঢাক হলে তো কথাই নেই। একসঙ্গে যখন অনেকগুলো ঢাক বাজে তখন একটা পজিটিভ এনার্জি তৈরি হয়। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর তাই হয়তো এবারের নির্বাচনে ঢাকের কদর বেড়েছে অনেকটাই। ভালো লাগছে, ওদের আয় বেড়েছে।’ তিনি আরও জানান, মালদা জেলায় এক হাজারেরও বেশি ঢাকি রয়েছেন। গতবছর পুজোর সময় সেই ঢাকিরা অত্যন্ত সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই ক্ষতি এবারের ভোটে পুষিয়ে দেবে। অদ্বৈতর আরও অভিযোগ, ‘আমাদের জেলার অধিকাংশ ঢাকিই এখনও লোকশিল্পীর সরকারি পরিচয়পত্র পাননি। নিজের জেলাতেই গভীর রাতে ঢাক বাজিয়ে বাড়ি ফিরতে গেলে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাই আমরা দাবি করছি, ঢাকিদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সকলকে লোকশিল্পীর পরিচয়পত্র দেওয়া হোক।’

