মালদা: অবশেষে সোমবার ২০১৩ সালের একটি মামলার রায় দিল মালদা ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন কোর্ট। রতুয়া এলাকায় স্ত্রী ববি খাতুনকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল স্বামী শেখ নুরুদ্দিনের বিরুদ্ধে। ওই সময় ববির পরিবারের তরফে নুরুদ্দিনের বিরুদ্ধে ববির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়। তদন্তে উঠে আসে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল ববিকে।
মামলাটি রুজু হয় কেস নম্বর ৮৬/১৩-র অধীনে IPC এর ৪৯৮এ ও ৩০৪বি ধারা অনুযায়ী। শুনানিতে প্রসিকিউশনের তরফে ছিলেন সরকারি আইনজীবী গুলাম গৌস খান লোদী। তিনি নিহত ববি খাতুনের পরিবারের হয়ে সওয়াল করেন। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অভীককুমার ঝা।


মামলাটির রায় ঘোষণা করেন জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল সেশন জজ ওয়ান বিদ্যুৎকুমার রায়। ওই রায়ে ধারা ৩০৪বি অনুযায়ী নুরুদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হল। পাশাপাশি ৪৯৮এ ধারায় তিন বছরের অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আইনজীবী (ডিস্ট্রিক্ট পিপি) অসিতবরণ বসু বলেন, ‘এই রায় নিঃসন্দেহে ন্যায়বিচারের একটি বড় উদাহরণ। ববির পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটল এদিন।’ মামলার নিষ্পত্তি পেয়ে খুশি ববির পরিবারের সদস্যরা।
অপরদিকে রায় ঘোষণার পর শেখ নুরুদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা জানালেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে পিটিশন করবেন তাঁরা।
নারী নির্যাতন ও পণপ্রথার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে ওই রায় একটি সদর্থক বার্তা দিল। ভবিষ্যতে এমন আরও মামলার প্রেক্ষিতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মত আইন বিশেষজ্ঞদেরও।

