স্বপনকুমার চক্রবর্তী, হবিবপুর: চারদিকে উৎসবের আমেজ শেষ হলেও মালদা (Malda) জেলার হবিবপুর (Habibpur) ব্লকের ঋষিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ চাঁদপুর এলাকায় এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ঐতিহ্যবাহী কার্তিকপুজোকে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে পালিত এই পুজো আজও গ্রামের ঐতিহ্য ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এখানে দেব সেনাপতি কার্তিক ষড়ানন রূপে পূজিত হন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই রূপেই দেবতা তাঁদের গ্রামে শুভ ফল, সমৃদ্ধি প্রদান সহ অকল্যাণ থেকে রক্ষা করেন।
গ্রামজুড়ে এখন চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ। আলোকসজ্জা ও মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত সবাই। মন্দির প্রাঙ্গণে পুজোর প্রস্তুতি দেখতে ভিড় জমছে ঋষিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বর্তমান প্রজন্মের উৎসাহী তরুণদের। তাঁদের একজন অনিকেত মণ্ডল বললেন, ‘দুর্গাপুজোর থেকে বেশি আনন্দ হয় এই ষড়ানন কার্তিকপুজোয়। এই পুজোর সময় দূরদূরান্তে থাকা এলাকার মানুষজন অনেকে ঘরে ফিরে আসেন। আমাদের এই কার্তিকপুজো শুধু ধর্মীয় নয়, এটি এলাকার সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক।’ অপর এক তরুণ প্রাণতোষ রায় বলেন, ‘ঋষিপুরের ষড়ানন কার্তিকপুজো এলাকার গর্ব।’ পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় ধুনুচি নাচ, আলপনা আঁকা। মহিলাদের পাশাপাশি উৎসাহী তরুণ প্রজন্মও এই পুজোয় যোগ দিয়েছে। আলোকসজ্জা ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগে পুজোমণ্ডপ হয়ে উঠছে অনবদ্য। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ও সার্বিক শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আর হাতেগোনা ক’দিন বাদে ষড়ানন কার্তিকের মূর্তি স্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুজো শুরু হবে।গ্রামের প্রতিটি মানুষের মধ্যে আজও কিংবদন্তি হয়ে মুখে মুখে ঘোরে শাস্ত্রমতে ষড়ানন কার্তিকের জন্মকাহিনী। এলাকাবাসীর কথায়, শাস্ত্রমতে তারকাসুরকে বধ করার জন্য কার্তিকের জন্ম হয়েছিল। কথিত শিবপার্বতীর অমিত শক্তি আকাশগঙ্গায় নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর একটি শরবনে গিয়ে পড়ে। সেখানেই কার্তিকের জন্মের পর তিনি কাঁদতে থাকেন। সেই সময় ছয়জন কৃত্তিকা নবজাতক কার্তিককে দেখে কোলে তুলে নেন। ছয়জন কৃত্তিকাই নবজাতক কার্তিককে স্তন্যপান করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তখন নবজাতক কার্তিক ছয়জন কৃত্তিকাকেই খুশি করতে নিজের ছয়টি মাথা সৃষ্টি করে তাঁদের স্তন্যপান করেন। তারপর থেকেই ছয় মাথা বিশিষ্ট কার্তিকের নাম হয় ষড়ানন কার্তিক। ষড়ানন কার্তিকপুজো কমিটির সম্পাদক বাপ্পা মণ্ডল বলেন, ‘এবার পুজোর ৬৭তম বছর। পুজো উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রাপালা সহ মেলা। মেলার মিলনে আবদ্ধ হতে প্রতি বছরের মতো এবছরও দূরদূরান্ত থেকে আসবেন প্রচুর ভক্ত।’

