হরষিত সিংহ, মালদা: এশিয়ান যুব গেমসে সপ্তম স্থানে থামতে হয়েছিল মালদার (Malda) মিষ্টি কর্মকারকে। মাঝে আবারও সে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছিল কলকাতার সাই ক্যাম্পে। আর্থিক অনটনকে পেছনে ফেলে আবারও জ্যাভলিন (Javelin Thrower) প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেল মিষ্টি। এবার ইন্ডিয়ান ওপেন থ্রোস কম্পিটিশনের অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে সে খেলবে। মিষ্টির বাবা সঞ্জয় কর্মকার রেলের হকার। পারিবারিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব। তবে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে মালদা জেলা ক্রীড়া সংস্থা। মিষ্টির খেলতে যাওয়ার সমস্ত খরচ জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে।
চতুর্থ ইন্ডিয়ান ওপেন থ্রোস কম্পিটিশন পঞ্জাবের পাতিয়ালায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আগামী ৭ ও ৮ মার্চ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সেখানেই অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে মিষ্টি। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষাও দিয়েছে সে। ইংরেজবাজার শহরের কুলদীপ মিশ্র কলোনির বাসিন্দা মিষ্টি ছোটবেলা থেকেই জ্যাভলিনে ভালো। গতবছর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল গেমসে সোনা জয় করে। তারপরেই সুযোগ মেলে এশিয়ান যুব গেমসে। সেখানে যদিও সপ্তম স্থানে তাকে শেষ করতে হয়। এছাড়া তার আগেও একাধিক জাতীয় ও রাজ্য স্তরের পদক রয়েছে তার ঝুলিতে। মিষ্টির কথায়, ‘আমার লক্ষ্য অলিম্পিক্স। দেশের হয়ে সোনা জিততে চাই আমি। সেই পথেই আমি এগিয়ে চলেছি।’

এদিকে, ভালো খেলার সুবাদে মিষ্টি সাই ক্যাম্পে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে সেখানেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বর্তমানে মিষ্টি সেখানেই রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তার ছোটবেলার কোচ অসিত পাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই জ্যাভলিনের প্রতিভা ছিল মিষ্টির। অনেক প্রতিকূলতাকে হারিয়ে আগামীদিনে সে আরও ভালো খেলবে এই আশা রাখি।’ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা দেবব্রত সাহা বলেন, ‘জেলার খেলোয়াড়দের পাশে আমরা আছি। যখন কেউ কোথাও খেলতে যায়, আমরা সব সদস্য মিটিং করেছি। বিষয়টি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীকে জানানো হয়। তিনি কখনও ব্যক্তিগতভাবে আবার কখনও সংস্থার পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা করে থাকেন।’

