কল্লোল মজুমদার, মালদা: মাথার উপর গনগন করছে সূর্য। এই প্রখর তাপ উপেক্ষা করে মালদা (Malda) শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আমবাগান ঘেরা জহুরাচণ্ডী মন্দির চত্বরে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দোকান সাজাতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। শনিবার থেকে মালদার ঐতিহ্যবাহী জহুরাচণ্ডীমেলা (Johura Chandi Mela) শুরু হচ্ছে। এক মাস ধরে এই মেলা চলবে।
এই মেলায় কেউ বিক্রি করবেন দেবী চণ্ডীর ভোগ, কেউ ফুল-বেলপাতা। কেউ বা আবার দর্শনার্থীদের জন্য লুচি-সবজির পসরা সাজিয়ে বসবেন। ব্যবসায়ীরা বর্তমানে মেলার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।


শুধু মালদা জেলা না অন্যান্য রাজ্য এমনকি বাংলাদেশ থেকেও অনেক মানুষ এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। এই দেশ তো বটেই বাংলাদেশেরও মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে মন্দির চত্বরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি হয়। পারিবারিক পুজো হলেও, এত মানুষের অংশগ্রহণে এই পুজো সর্বজনীন উৎসবের রূপ নেয়।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সম্রাট লক্ষ্মণ সেন গৌড়ে তাঁর রাজধানী লক্ষ্মণাবতী স্থাপন করেন। সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য চারদিকে চার দেবীর আরাধনা শুরু করেন লক্ষ্মণ সেন। দক্ষিণে পাতালচণ্ডী, পূর্বে জহুরাচণ্ডী, পশ্চিমে দুয়ারবাসিনী এবং উত্তরে মাধাইচণ্ডী। মন্দির চত্বরে দাঁড়ালে একটু দূরে বাংলাদেশ স্পষ্ট দেখা যায়।
শুক্রবার মন্দির চত্বরে বসেছিলেন সেবাইত কল্যাণ তিওয়ারি। তিনি বলেন, ‘শুধু এ দেশের ভক্তরাই নন, বাংলাদেশ থেকেও বহু মুসলিম দেবীকে পুজো দিতে আসেন। তাঁরা দেবীকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন শোলা কিংবা কাগজের ফুল দিয়ে।’
অপর সেবাইত কবির তিওয়ারির কথায়, ‘প্রতি বছর হাজার হাজার মুসলিম ভক্ত দেবীকে পুজো দিতে আসেন। তাঁরা দেবীর উদ্দেশে নিবেদিত কোনও সামগ্রী বাড়ি নিয়ে যান না। তাঁরা বলেন, সবকিছু মায়ের উদ্দেশে নিবেদন করা হয়েছে। তাই সেগুলো সঙ্গে নিয়ে যান না।’

