রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Malda | কোতুয়ালির সেই ‘পাঁচিল’ ভাঙল, মৌসমের ঘরে ফেরায় এখন এক টেবিলেই ইশা-বেনজির!

শেষ আপডেট:

কল্লোল মজুমদার, মালদা: কথায় বলে, সম্পর্কের বরফ গলে। অর্থাৎ, দু’পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হওয়া। মালদার (Malda) কোতুয়ালির বিখ্যাত সেই বাড়িতে সম্পর্কের বরফ গলার উদাহরণ টানা যেতেই পারে। তবে কথাটা ঠিকঠাক হবে, যদি বলা যায়, সম্পর্কের পাঁচিল ভাঙল।

কী এই পাঁচিল? আর কেনই বা তা ভাঙার কথা বলা হচ্ছে? এসব প্রশ্নের জবাব পেতে গেলে একটু পিছিয়ে যেতে হবে। বছর ছয়েক আগেকার কথা। যখন তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন মৌসম বেনজির নুর (Mausam Noor), তখন কোতুয়ালির বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটা বিভেদের প্রাচীর গড়ে উঠেছিল। শুধু মানসিক প্রাচীর নয়, গড়ে উঠেছিল কংক্রিটের প্রাচীরও। সেই প্রাচীরের একদিকে বাস করতেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম আর অপরপ্রান্তে থাকতেন কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী (Isha Khan Choudhury)। কিন্তু তারপর মহানন্দা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি মৌসম কংগ্রেসে ফিরেছেন। তারপর শনিবার মালদায় ফিরেছেন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে তাই ছবিটা বদলেছে। কোতুয়ালির বাড়িতে সেই কংক্রিটের প্রাচীর ভাঙা হয়নি। তবে ভেঙে গিয়েছে মনের প্রাচীর। দুই পরিবার আজ মিলেমিশে একাকার। এখন পরিবারে ফিরে এসেছে মানসিক শান্তি। ‌আর তা স্পষ্টই বলে দিলেন ইশা খান, ‘অনেকদিন ধরে মৌসমকে কংগ্রেসে ফিরিয়ে নিয়ে আসার চাপ ছিল কর্মীদের তরফে। ‌ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে সফল হয়েছি। রাতে এখন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি।’

২০১৯ সালে, লোকসভা ভোটের ঠিক আগে, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন উত্তর মালদার সাংসদ মৌসম। আর ২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে, কংগ্রেসে ফিরলেন তিনি। আর তারপরেই প্রবাদপ্রতিম কংগ্রেস নেতা বরকত গনি খান চৌধুরীর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে মৌসম শপথ নিয়েছেন, ‘আজীবন কংগ্রেস করব আমি।’ শনিবার ও রবিবার পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটিয়েছেন। রবিবার সপরিবারে পিকনিকে গিয়েছেন। ‌ইশা ও মৌসম একসঙ্গে, এক টেবিলে-এমন ছবিতে এখন মালদার কংগ্রেসিদের সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ফিড’ ছয়লাপ।

সোমবার অবশ্য রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়েছেন। সকালে উঠেই দাদা ইশার সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন মৌসম। গাড়ি করে সোজা চলে যান জেলা কংগ্রেসের সদর দপ্তর হায়াত ভবনে। ইশার পরনে ছিল কালো প্যান্ট, কালো জ্যাকেট আর কালো রঙের মাফলার। মৌসমের পরনে ছিল কালো রঙের কোট আর লাল রঙের স্কার্ফ। হায়াত ভবনে এসে ভাই-বোন একসঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের নিয়ে বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে মালা দেন। এরপর হায়াত ভবনে বসে জেলার প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা।

সোমবার কিন্তু আরও একটি ছবি বদলে গিয়েছে। তৃণমূলে থাকার সময় মৌসমের অফিস ছিল স্টেশন রোডে, নুর ম্যানশনে। কিন্তু কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর সেই অফিস আজ শুনসান। হায়াত ভবনে বসেই কংগ্রেসের হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এব্যাপারে জানতে চাইলে মৌসম বলেন, ‘এখন থেকে আর নুর ম্যানশনে নয়, প্রতিদিন হায়াত ভবনে বসেই দলের কাজ করব।’

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Share post:

Popular

More like this
Related

Chanchal Super Specialty Hospital | পরিদর্শনের চক্করে ভোলবদল! চেনা দুর্গন্ধ উধাও, একদিনের জন্য ‘সুপার’ হয়ে উঠল চাঁচল হাসপাতাল

সামসী: রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিস ড....

Bamangola | ভক্তদের মনস্কামনা পূরণের এক পুণ্যভূমি, ইতিহাস ও পুরাণের মিলনক্ষেত্র তিলভাণ্ডেশ্বর

স্বপনকুমার চক্রবর্তী, বামনগোলা: প্রাচীন বটবৃক্ষের শিকড় আর ডালপালায় মোড়া...

Bateshwar Temple | ধ্বংসস্তূপের মাঝে আজও জীবন্ত প্রাচীন সভ্যতা, অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে বটেশ্বর মন্দির

অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: দূর থেকে দেখলে বোঝা মুশকিল যে...

Mainaguri | ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার মিলনস্থল, পর্যটন মানচিত্রে নতুন রূপ পেল নবম শতকের জটিলেশ্বর

অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি ব্লকের (Mainaguri) চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েত...