Malda Medical College & Hospital | ভগবানের ভরসায় মেডিকেল 

শেষ আপডেট:

অরিন্দম বাগ, মালদা: মালদা মেডিকেলের (Malda Medical College & Hospital) আউটডোর বিভাগে পরিষেবা নিচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। প্রশাসনিক ভবনের নীচতলায় মাঝেমধ্যেই চলে নানারকম বিশেষ শিবির। সব মিলিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা হয় এখানে। যে কোনও সময় অগ্নিকাণ্ড তো ঘটতেই পারে। মেডিকেলের দুই বিল্ডিংয়েই লাগানো রয়েছে একাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। তাতে মেয়াদ শেষের তারিখ জ্বলজ্বল করছে, ‘৫ মে ২০২৫’। আসলে মেডিকেল চত্বরে একাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই মেয়াদ উত্তীর্ণ। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা সাত মাস আগে পেরিয়ে গেলেও কেউ খেয়ালও করেননি বিষয়টা। যন্ত্রগুলি যাচাই পর্যন্ত করা হয়নি। এমনকি দেওয়ালে ঝুলে থাকা সেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলির প্রেশারের কাঁটাও রেড জোনে থমকে রয়েছে।

আর সেইসঙ্গে আগুন নিয়ে গোটা মেডিকেল কলেজই রেড জোনে রয়েছে কার্যত। আগুন লাগলে ঝলসে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। দমকল আসতে আসতে যতটা সময় লাগবে, ততক্ষণ আসলে ভগবানই ভরসা।

সমস্যার কথা মানছেন মালদা মেডিকেল কলেজের সুপার প্রসেনজিৎ বর। মানছেন, মেডিকেলে মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কখনোই থাকা উচিত নয়। যেসব অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের প্রেশার কম রয়েছে সেগুলিও দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন, মানছেন সেটাও। বিষয়টি নিয়ে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের দায়িত্বে থাকা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তদন্ত করে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন।

মালদা মেডিকেলে জন্ম শংসাপত্র নিতে এসেছিলেন মহম্মদ সেতাউর রহমান। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের এই দশার কথা জানতে পেরে তিনি তো শিউরে উঠলেন। বললেন, ‘মেডিকেল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল সময়মতো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলি যাচাই করা। কোনওভাবে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে গেলে বড়সড়ো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ আগুন লাগলে সবাই তো হুড়োহুড়ি করে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি থাকা কোনও রোগী, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি বা গর্ভবতীরা কী করবেন? তাও তো সেতাউর বিপদের পুরোটা জানতেও পারলেন না।

মেডিকেলে আরও বিপদ লুকিয়ে রয়েছে। দমকল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালদা মেডিকেলে থাকা ১৫টি ব্লকের মধ্যে নাকি মাত্র ৭টি ব্লকের অগ্নি নিরাপত্তা শংসাপত্র (ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট বা এফএসসি) রয়েছে। বাকি ব্লকগুলির সেই এফএসসি পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। এমনকি মাতৃমা ভবনেরও এফএসসি নেই। এক রোগীর আত্মীয় সুরজান আলির সঙ্গে কথা হচ্ছিল।

তিনি বললেন, ‘দুর্ঘটনা কখনও বলেকয়ে হয় না। যে কোন‌ও সময় যে কোনও জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বড়সড়ো দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হয়। মালদা মেডিকেলের একাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের নাকি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। যদি তেমনই হয়ে থাকে তবে বিষয়টি যথেষ্ট চিন্তার। এই বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।’

বিষয়টি দেখার দায়িত্ব বর্তায় সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের উপর। সেই পদে সুরজিৎ কুণ্ডু দিনকয়েক আগেই মালদা মেডিকেলে যোগদান করেছেন। বললেন, ‘যদি কোনও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের প্রেশার না থাকে, তবে সেই যন্ত্র লাগানো থাকা উচিত নয়। প্রেশার কম থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলি প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ ও প্রেশার কম থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র মেডিকেলে লাগানো রয়েছে বলে অভিযোগ পেলাম। সেই অনুযায়ী মেডিকেলের সমস্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কী পরিস্থিতিতে রয়েছে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

More like this
Related

Dinhata Murder Reconstruction | ভবঘুরে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার! অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ

চৌধুরীহাট: দিনহাটায় ভবঘুরে খুনের (Dinhata Murder Reconstruction) ঘটনার তদন্তে...

Kishanganj | কিশনগঞ্জ পুলিশের ‘অপারেশন সাকসেস’! ব্যাংক কর্মীর টাকা লুটের ঘটনায় উদ্ধার ৯১ হাজার, শ্রীঘরে ৩ দুষ্কৃতী

কিশনগঞ্জ: বেসরকারি ব্যাংক কর্মীর থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার কিনারা...

Chakulia | চাকুলিয়ায় বিডিও অফিসে হামলার ঘটনায় কঠোর কমিশন! কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর (SIR) শুনানিকে কেন্দ্র করে...

Phansidewa News | জাতীয় সড়কে পুলিশের বড় সাফল্য! ফাঁসিদেওয়ায় লরি বোঝাই বিপুল পরিমাণ পোস্ত উদ্ধার

ফাঁসিদেওয়া: উত্তরবঙ্গকে করিডর করে মাদক ও নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের...