মুরতুজ আলম,সামসী: মালদার রতুয়া বিধানসভার সামসী (Samsi) পঞ্চায়েত এলাকার ভগবানপুর গ্রামে শনিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের শাসক দলের তরফে অভিযোগ, এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর অসুস্থ মাকে ধমকানো হয়েছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, এটি ছিল রুটিন সতর্কতামূলক অভিযান।
ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সহ-সভাপতি ইউসুফ আলি ওরফে বাহাদুরের অভিযোগ, শনিবার দিনভর তিনি দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। রাতে বাড়ি ফিরলে জানতে পারেন, তাঁকে খুঁজতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান (central force) ও সামসী ফাঁড়ির পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। বাড়িতে তাঁকে না পেয়ে তাঁর অসুস্থ মা সাদেনুর বিবিকে ধমকানো হয় এবং ছেলে যেন আর তৃণমূলের হয়ে প্রচারে না যায়, এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।


ঘটনার প্রতিবাদে ইউসুফ আলি সামসী পুলিশ ফাঁড়িতে রবিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি কোনও সমাজবিরোধী নই। রাজনৈতিকভাবে প্রচার করা আমার অধিকার। সেই কারণে বাড়িতে গিয়ে এভাবে হেনস্তা করা মেনে নেওয়া যায় না।”
শুধু ভগবানপুর নয়,সামসীর পিন্ডলতলা গ্রামে শাসকদলের এক পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ইমদাদুল হক ওরফে ফান্টুসের বাড়িতে গিয়েও একইভাবে সতর্ক করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বান্ধাকুড়ি গ্রামের তৃণমূল কর্মী আব্দুল খালেকের বাড়িতেও রাতে আধাসামরিক বাহিনীর যাওয়ার খবর সামনে এসেছে।
ঘটনা নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সমর মুখার্জী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিযোগ করেন, “বিজেপির মদতেই বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। মানুষ রায় দেবে বুঝেই এই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে এবং এভাবে ভয় দেখানো চললে আন্দোলনে নামবে তৃণমূল।”
অন্যদিকে,বিজেপি প্রার্থী অভিষেক সিংহানিয়া এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন,“এটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক বিষয়।পুলিশ কেন কোথায় গেছে, তা পুলিশই বলতে পারবে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,কোনও নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং যাদের বিরুদ্ধে অতীতে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, ভোটের দিন যাতে কোনওরকম অশান্তি না হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

