সেনাউল হক, কালিয়াচক: আগে কাঠ ঘাই বা রিলিং মেশিন দিয়ে রেশম সুতো উৎপাদন করা হত। সেখানে একটি বেসিনে গরম জলে রেশমগুটি সিদ্ধ করার পরে গুটি থেকে সুতো বের করা হত। এই পদ্ধতিতে বের করা রেশম সুতোর মান তেমন উন্নত ছিল না। মান উন্নত না হওয়ায় বিক্রিবাটা তেমন ছিল না, সুতোর দামও কম মিলছিল। পরিশ্রমের ফল তেমন পাচ্ছিলেন না রেশম কাটাই শিল্পী বা রেশম রিলাররা।
তাঁদের সেই সমস্যা দূর করবে দুই বেসিনযুক্ত মাল্টি এন্ড রিলিং মেশিন। এই উন্নত প্রযুক্তির মেশিনে তৈরি সুতোর মান আগের মেশিনে তৈরি সুতোর মানের থেকে উন্নত হবে। এতে সুতোর দামও বেশি মিলবে। সুতোর দাম বেশি পাওয়া গেলে রেশমগুটির দামও বাড়বে। ফলে রেশমশিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আরও উদ্বুদ্ধ হবেন রেশমচাষিরা। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান রেশম রিলার সানাউল্লাহ শেখ। তিনি বললেন, ‘এই প্রশিক্ষণের ফলে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। সবমিলিয়ে রেশমশিল্পের উন্নয়নে সরকার সচেষ্ট হয়েছে। এটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ।’
এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবার হাতেকলমে শেখাতে শনিবার থেকে প্রশিক্ষণ (Malda Silk Reeling Training) চলছে কালিয়াচকের (Kaliachak) উত্তর দরিয়াপুরে। মোট ৫০ জন রিলারকে দু’দফায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। চলবে ফেব্রুয়ারি মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত। প্রায় এক মাস ধরে চলা প্রশিক্ষণে হাতে ধরে উন্নত রেশম সুতো উৎপাদন শেখানো হবে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হল, অংশগ্রহণকারীদের উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চমানের রেশম সুতো তৈরির দক্ষতা বাড়িয়ে তোলা।
সোমবার দুপুরে এই কর্মসূচি পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদের বৈজ্ঞানিক সুপর্ণা সাহা, মালদা জেলা রেশম বিভাগের উপ-অধিকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী, জালালপুর অফিসের অফিসার ইনচার্জ চন্দনকুমার ঝা প্রমুখ। তাঁদের কথায়, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব ইউনিট গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও বিভিন্ন সুযোগসুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। এতে স্থানীয় রেশমশিল্পের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছিলেন আশিক ইকবাল। তাঁর কথায়, ‘এই ধরনের উন্নত প্রশিক্ষণ আমাদের খুবই উপকারে আসবে। এখন আমরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারব। উন্নত প্রযুক্তির মেশিনগুলো কেমন হবে, সেগুলো চালানোর উপায়, সুতোর মান উন্নত করার উপায় ইত্যাদি বিষয়ে বোঝানো হচ্ছে।’

