আসানসোল: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই আসানসোলের শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক পারদ সপ্তমে চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Asansol Rally)। রবিবার দুপুরে আসানসোলের কল্যাণপুর হাউজিং সংলগ্ন এডিডিএ (ADDA) গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভা থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার ডাক দিলেন তিনি। আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী মলয় ঘটক এবং তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় মমতা সাফ জানান, “বিজেপিকে উৎখাত করে তবেই দিল্লিতে যাব।”
ভোটার তালিকা ও এনআরসি নিয়ে কড়া অবস্থান: মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সুকৌশলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি দাবি করেন, “আমি লড়াই করে ৩২ লক্ষ নাম যুক্ত করেছি। এখনও ৯০ লক্ষ নাম তালিকায় তোলা বাকি আছে। ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ মুসলিম ভোটারকে বাদ দেওয়ার ছক কষা হয়েছে।” এই অসঙ্গতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি তিনি ফের স্পষ্ট করে দেন যে, বাংলায় কোনোভাবেই এনআরসি (NRC) কার্যকর করতে দেবেন না তিনি।


কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আক্রমণ: বিজেপিকে কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, “সাথে এল মোটা ভাই, সঙ্গে ইডি-সিবিআই।” সিবিআই এবং ইডি-কে ব্যবহার করে তৃণমূল প্রার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শিখ সম্প্রদায়ের অবমাননা এবং বিহারি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন।
শিল্প ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি: আসানসোল-রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলকে আন্তর্জাতিক মানের ক্লাস্টার হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আসানসোলে গ্যাস সেলের কারখানা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি করা হবে, যা স্থানীয় হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে। পাশাপাশি ধস কবলিত এলাকার মানুষের পুনর্বাসন এবং আর্থিক সাহায্যের আশ্বাসও দেন তিনি। কেন্দ্রকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, “রেল ইঞ্জিন কারখানা দুর্বল করা হয়েছে, কেবলস কারখানা বন্ধ হয়েছে। কয়লা চুরির দায় আপনাদেরই, কারণ নিরাপত্তার দায়িত্বে সিআইএসএফ ছিল।”
বক্তব্যের শেষে ভোটারদের সতর্ক করে মমতা বলেন, “ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনও তথ্য কাউকে দেবেন না। সাহস থাকলে সামনা-সামনি লড়াই করুন। এবার গণতন্ত্রেই বদলা হবে এবং বাংলা জিতবে।”

