উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতিতে সাপে-নেউলে সম্পর্ক হলেও সৌজন্যের খাতিরে যে তিনি অনন্য, বৃহস্পতিবার লোকভবনে ফের তা প্রমাণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবির শপথ অনুষ্ঠানে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর (Biman Basu) প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই বিরল সৌজন্যের ঘটনাটি বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও (Kunal Ghosh)।
অনুষ্ঠানের একটি ছবিতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক পাশেই বসেছিলেন বিমান বসু। কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, ওই আসনটি আসলে বিমান বসুর জন্য নির্ধারিত ছিল না। সেটি ছিল কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের আসন। মেয়র অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় তাঁর নাম সরিয়ে প্রবীণ বাম নেতাকে নিজের পাশে বসিয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী। কুণাল ফেসবুকে লিখেছেন, “সৌজন্য। মেয়র আসবেন না। তাঁর নাম সরিয়ে বিমান বসুকে বসতে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” এর সঙ্গেই সিপিএমের বর্তমান প্রজন্মের নেতাদের উদ্দেশে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, “সিপিএম দেখেও শেখে না, ঠেকেও শেখে না।”
সৌজন্যের পালা এখানেই শেষ হয়নি। অনুষ্ঠান শেষে লোকভবন থেকে বেরোনোর সময় দেখা যায়, বিমান বসুর গাড়ি তখনও পৌঁছায়নি। মুখ্যমন্ত্রী নিজের গাড়ি আগে আসতে বারণ করে দেন এবং প্রবীণ নেতার জন্য অপেক্ষা করেন। বিমান বসুর গাড়ি এলে তাঁকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়িতে তুলে দেন মমতা। প্রত্যুত্তরে বিমানবাবুও ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ জানান। এরপর নিজের গাড়িতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলার রাজনীতিতে মমতা-বিমান সংঘাত ঐতিহাসিক। তবে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী অবস্থানের কারণে মাঝেমধ্যেই তাঁদের সৌজন্য বিনিময় নজর কাড়ে। অতীতে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে বসে ‘ফিশ ফ্রাই’ খাওয়ার ঘটনাটিও ‘ফিশ ফ্রাই ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। এদিনের ঘটনাটিও প্রমাণ করল যে, কড়া রাজনৈতিক বিরোধিতার মাঝেও ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধ আজও অমলিন।

