দিনহাটা: কোচবিহারের মাটিতে দাঁড়িয়ে এনআরসি (NRC) এবং আধার কার্ডের ‘নাম কাটা’র ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার দিনহাটার (Dinhata) জনসভা থেকে তিনি বিজেপি সরকারকে ‘ভীরু ও কাপুরুষ’ বলে কটাক্ষ করেন। রাজবংশী সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত তিনি সফল হতে দেবেন না।
এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দিনহাটায় পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, “দিনহাটায় ১৮ হাজার নাম কেটেছে। আমি জানি এই সংখ্যাটা আসলে ৩০ থেকে ৩২ হাজার। ভয় পাবেন না, বাকি যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁদের নাম আমি তুলে ছাড়ব।” নাম না থাকলে দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকির পাল্টা জবাবে মমতা বলেন, “কালকেই বলেছেন যাঁর নাম থাকবে না, তাঁকে তাড়াব। তুমি তাড়াবার কে? রাজবংশীদের এনআরসি-র নোটিস পাঠায়, মা-বোনেদের সম্মান হরণ করে। এই দুরাচারী বিজেপি সরকারকে ভেঙে ফেলুন।”


বিজেপি নেতৃত্বকে সরাসরি বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “এরা ভীরু-কাপুরুষের দল, মেঘের আড়াল থেকে লড়াই করে। সামনাসামনি লড়াই করার ক্ষমতা এদের নেই। আমার মুখোমুখি দাঁড়াবার সাহস থাকলে বসুন, তারপর বাংলার দিকে তাকাবেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভোট লুট করতে বাইরে থেকে লক্ষ লক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে আসছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে তিনি তোপ দাগেন, “দিল্লির সরকারকে বেচে খাচ্ছ। কখনও ধর্মের নামে, কখনও ভোটের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছ।”
কোচবিহারের জন্য কেন্দ্র কী করেছে সেই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোচবিহার জেলার জন্য তোমরা কিছুই করোনি। আমাদের সরকার প্রতিটি পরিবারের জন্য কাজ করেছে। একেকটি পরিবার সরকারি ৪-৫টি প্রকল্পের সুবিধা পায়।” ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি এদিন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, এই ঐক্যই দিনহাটায় বিজেপির ‘ডানা ছাঁটতে’ সাহায্য করবে।

