বর্ধমান: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Rally)। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা—সবই বিজেপির একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এসআইআর (SIR) হলো সবচেয়ে বড় সর্বনাশ এবং বিগ স্ক্যাম।”
ভোটিং মেশিন ও গণনা নিয়ে সতর্কতা: খণ্ডঘোষের মঞ্চ থেকে ভোটারদের সতর্ক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এদের প্ল্যান হলো স্লো ভোটিং এবং স্লো কাউন্টিং। গণনার শুরুতে হয়তো দেখাবে বিজেপি জিতছে, কিন্তু মনে রাখবেন সেটা মিথ্যা কথা। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলই জিতবে, মা-বোনেরাই জিতবেন।” তিনি অভিযোগ করেন যে, ২০২৪-এর ভোটার তালিকায় কারচুপি করে কয়েক দশক ধরে এ দেশে থাকা মানুষের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে, অথচ সিএএ-র মাধ্যমে নতুনদের নাগরিকত্ব দেওয়ার টোপ দেওয়া হচ্ছে।


ডিলিমিটেশন ও বাংলা ভাগের আশঙ্কা: বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, “মনে রাখবেন ওরা আগামী ১৫ তারিখে ডিলিমিটেশনের বিল নিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে ওরা নিজেদের স্বার্থে বাংলাকে ভাগ করতে চায়। কিন্তু ২৬-এ ওদের সরকার উল্টে যাবে, এটা ধ্রুব সত্য।” এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, বিজেপি মানুষের ঘর-বাড়ি, ঠিকানা সব কেড়ে নিতে চাইছে, যা তিনি হতে দেবেন না।
কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের খতিয়ান: কেন্দ্রের মোদী সরকারকে কর্মসংস্থান নিয়ে কাঠগড়ায় তুলে মমতা প্রশ্ন করেন, “রেলে বা ডিফেন্সে কটা শূন্যপদ পূরণ করেছেন? বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটিও দেননি। উল্টো বাংলায় আমরা দু’কোটি চাকরি দিয়েছি এবং ৪০ শতাংশ বেকারি কমিয়েছি।” রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের পাকা বাড়ি করে দেওয়া হয়েছে এবং আগামীতে কোনও মানুষের বাড়ি কাঁচা থাকবে না। এছাড়া ঘরে ঘরে পানীয় জল ও পেনশন প্রকল্পের সুবিধাও জারি থাকবে।
বক্তব্যের শেষে আত্মবিশ্বাসের সুরে তৃণমূল নেত্রী ঘোষণা করেন, “ওরা বাংলাকে টার্গেট করছে করুক, কিন্তু আগামী দিনে আমরাই দিল্লি দখল করব।”

