উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রণংদেহী মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের ওপর হেনস্তার অভিযোগ আনলেন তিনি। তৃণমূল (TMC) নেত্রীর দাবি, গণনাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। মমতা বলেন, “সাখাওয়াতে আমার পেটে লাথি মারা হয়েছে। আমি একজন মহিলা, আমার সঙ্গেই যদি এমনটা হয়, তবে দলের সাধারণ কর্মীদের ওপর কী পরিমাণ অত্যাচার চলছে তা সহজেই অনুমেয়।”
ভোট-পরবর্তী হিংসার (Bengal Post Poll Violence) অভিযোগ তুলে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ‘তথ্য অনুসন্ধানী কমিটি’ গড়া হবে। এই কমিটি রাজ্যের কোথায় কোথায় তৃণমূল কর্মীদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে, তার বিশদ রিপোর্ট তৈরি করবে। হারের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে তাঁর হুঙ্কার, “আমরা হারিনি, আমাদের থেকে জয় লুট করা হয়েছে। মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভাবা যায়? আমরা যখন জিতেছিলাম, তখন সিপিএমের একটা পার্টি অফিসেও হাত দিইনি। কিন্তু আজ গণতন্ত্র বিপন্ন।”


বিজেপির এই জয়ের নেপথ্যে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘সরাসরি যোগসাজশ’ দেখছেন তিনি। মমতার অভিযোগ, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঢুকে ভাঙচুর করেছে বিজেপি কর্মীরা। তিনি যখন ১৩ হাজার ভোটে লিড করছিলেন, সেই সময় পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল।”
আপাতত দলের পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে মুখ খুলতে চাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি, অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ জাতীয় স্তরের শীর্ষ নেতারা তাঁকে ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। হারলেও লড়াই যে থামছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়ে মমতা বলেন, “দল কর্মীদের পাশে আছে। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই।” প্রশাসনিক লড়াই ছেড়ে এখন রাজপথের লড়াইয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিতই মিলল কালীঘাট থেকে।

