উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে সোমবারের ফলাফল এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। পনেরো বছর পর বাংলার ক্ষমতার অলিন্দ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-কে। তবে লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটের নিজ বাসভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে বসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই পরাজয় জনমতের নয়, বরং ‘লুট’-এর ফল।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা হারিনি। অন্তত ১০০টি আসন গায়ের জোরে লুট করে নেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনই আসল ভিলেন।’’ তাঁর অভিযোগ, ভোটের ঠিক দু’দিন আগে ষড়যন্ত্র করে দলের একাধিক সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি নির্বাচনের প্রাক্কালে দফায় দফায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদল করে শাসকদলের কোমর ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি সাফ জানান, রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ লড়াই দেখলেও এমন নজিরবিহীন নির্বাচন তিনি এর আগে কখনও দেখেননি।


তবে সরকার হারালেও জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা যে কমছে না, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি। মমতা জানান, জাতীয় স্তরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র শক্তি বৃদ্ধিতে তিনি এবার পূর্ণ মনোনিবেশ করবেন। ইতিমধ্য়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিরোধী নেতৃত্ব তাঁকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
পরাজয় পরবর্তী জীবনে নিজের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘আমি এখন মুক্ত পাখি, মানুষের সেবায় কাজ করব।’’ প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি ফের মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যেতে চান বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। হারের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছেন তিনি। রাজপাটের লড়াই শেষে মমতার এই ‘মুক্ত পাখি’ হয়ে ওঠার বার্তা আগামীদিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন নতুন মেরুকরণ আনে, এখন সেটাই দেখার।

