উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে সোমবারের ফল এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিজেপি ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হলেও, পরাজয় মেনে নিতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এখনই ইস্তফা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর পাল্টা দাবি, “আমরা হারিনি, জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের তির সরাসরি নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং বিজেপির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। তিনি বলেন, “২০০৪ সালেও এমন জিনিস দেখিনি। ১৯৭২-এর সন্ত্রাসের কথা শুনেছি, কিন্তু এই সরকার সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করেছে, তারাই আসল ভিলেন।” তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে কমিশনের ‘বেটিং’ হয়েছে এবং এতে খোদ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি যুক্ত। ভোটের আগে ষড়যন্ত্র করে অফিসার বদল এবং কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি তোপ দাগেন। মমতা বলেন, ‘‘এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।’’


এদিন কালীঘাটে বসেই মমতা অভিযোগ করেন, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমি ১৩ হাজার ভোটে লিড করছিলাম, ৩২ হাজারের বেশি লিড পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।”
হারের আবহেও জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতারা মমতার পাশেই দাঁড়িয়েছেন। সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি থেকে শুরু করে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব এবং হেমন্ত সোরেনরা ফোন করে তাঁকে সমবেদনা জানিয়েছেন। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমোর মন্তব্য, “কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, বিচারব্যবস্থা নেই, কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়—তখন গণতন্ত্র কোথায় যাবে?” সব মিলিয়ে পরাজয়ের পর পদত্যাগ নয়, বরং আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মেজাজেই ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

