উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জিতে বিজেপি ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গেলেও, পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কালীঘাটে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠক থেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রেকর্ড থাকুক, প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক।” জনমতকে সম্মান জানানোর বদলে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ফলাফলে কারচুপির অভিযোগে সরব হয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনি নিজেই কালো কোট গায়ে তুলবেন। তাঁর কথায়, “আদালতে আমি, চন্দ্রিমা (ভট্টাচার্য), বিপ্লব মিত্র, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়— আমরা যারা আইনজীবী আছি, তারা সবাই মিলে এই কারচুপির বিরুদ্ধে সওয়াল করব।” এর আগে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলায় সওয়াল করার অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।


দলের এই অভাবনীয় ভরাডুবির নেপথ্যে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’দের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন নেত্রী। বৈঠকে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া নির্দেশ, “কারা অন্তর্ঘাত করেছে তাদের নাম দিন।” দলের ভাঙন ঠেকাতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময় শূন্য থেকে লড়াই করে তিনি দলকে আজকের জায়গায় এনেছেন, তাই এবারও দল ঘুরে দাঁড়াবেই।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট করেন, নেত্রী দল সামলাবেন আর তিনি ‘সেনাপতি’ হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে থাকবেন। ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না, সেখানে কর্মীদের অনলাইনে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের শপথের দিন যখন রাজ্যজুড়ে গেরুয়া আবির উড়বে, তখন তৃণমূল কার্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর নির্দেশ দিয়ে এক নীরব অথচ দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

