উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কার্যত স্পষ্ট। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় জয়ের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতা। গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মঙ্গলবার এক বিস্ময়কর ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন— তিনি ইস্তফা দেবেন না (Mamata Banerjee Refuses to Resign)।
মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, তিনি পরাজয় স্বীকার করছেন না। তাঁর অভিযোগ, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।” এই মন্তব্যের পর সোমবার রাতে তাঁর কনভয় রাজভবনের পথ এড়িয়ে সোজা কালীঘাটের বাসভবনে ফিরে যায়। ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যেভাবে পরাজয়ের পর রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে ফিরেছিলেন, সেই রাজনৈতিক সৌজন্যের পথে হাঁটলেন না মমতা।


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে, বৃহস্পতিবার। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলেও মেয়াদের শেষ দিনে তাঁর পদের আইনি বৈধতা আপনাআপনিই শেষ হয়ে যায়। এরপর তাঁর নামের আগে ‘প্রাক্তন’ তকমা জুড়ে যাবে। কিন্তু ৭ মে থেকে নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত যে মধ্যবর্তী সময় (Gap), সেই সময়ে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে কাজ চালানোর অনুরোধ করেন রাজ্যপাল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ই অস্বীকার করায় রাজ্যপাল সেই পদক্ষেপ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বুধবার রাতে অমিত শাহ কলকাতায় এসে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী ৯ মে (রবীন্দ্রজয়ন্তী) নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। যদি ৭ মে মমতার মেয়াদ শেষ হয় এবং ৯ মে শপথ হয়, তবে মাঝখানের একদিন রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে পরিস্থিতি তত্ত্বাবধান করবেন।
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোটে হেরে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না দেওয়ার এমন নজির নেই। মমতার এই সিদ্ধান্ত কেবল সাংবিধানিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না, বরং আগামী কয়েকদিন বাংলার রাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইস্তফা না দিলেও ৭ তারিখের পর তিনি পদ হারাবেন ঠিকই, তবে এই অনড় মনোভাব তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

