উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় এদিন আবেগ ও যুক্তির মিশেলে সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Sonarpur Rally)। সোনারপুর উত্তরের প্রার্থী ফিরদৌসি বেগম এবং সোনারপুর দক্ষিণের লাভলি মৈত্রর পাশে দাঁড়িয়ে নেত্রী বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে এই দুই প্রার্থী কেবল দলের কর্মী নন, পরিবারের সদস্যের মতো।
লাভলি মৈত্রর অভিনয় জীবন এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিয়ে মমতা বলেন, “লাভলি টিভিতে কাজ করে, আবার এলাকাও দেখে। মানুষের কাজ করা সবথেকে বড় কাজ।” লাভলির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় কিছু ছোটখাটো ত্রুটি থাকতে পারে— এটা স্বীকার করে নিয়েও নেত্রী উদারভাবে বলেন, “নতুন যারা হয়, নতুন বাড়িতে ঢুকতে একটু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। আমার কি ভুল হয়নি? পরে সেটা শুধরে নেওয়ার সময় দিন।” তিনি জানান, সিরিয়ালের ব্যস্ততা বাদ দিয়েও লাভলি এবং ফিরদৌসি বিধানসভার প্রতিটি অধিবেশনে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে পার্টির প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করেছেন।


ফিরদৌসি বেগম এবং লাভলি মৈত্রকে নিজের ‘দুই বোন’ বলে সম্বোধন করেন মমতা। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই এলাকার মানুষ যেমন আশীর্বাদ দিয়ে সায়নী ঘোষকে জিতিয়েছেন, তেমনই ফিরদৌসি ও লাভলিও তাঁদের আশীর্বাদের যোগ্য।
সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং দেবের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “আপনারা সায়নীকে জিতিয়েছেন। ও সংসদে খুব লড়াই করে। ও এবং দেব সারা বাংলায় আমাদের মতোই চড়কি কাটছে।” সোনারপুরের এই সভা থেকে মমতা আদতে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিনোদন জগতের মানুষ হয়েও তাঁর দলের প্রার্থীরা কীভাবে মানুষের জন্য মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন।
সোনারপুরের এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘পারিবারিক’ আবেদন এবং লাভলি-ফিরদৌসির সংসদীয় তৎপরতার সার্টিফিকেট কর্মীদের মধ্যে কতটা উদ্দীপনা তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।

