বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, কুমারগঞ্জ: বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এজলাসে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। সুপ্রিম কোর্টে ভোটার তালিকা সংশোধন মামলার শুনানিতে তাঁর সওয়াল-জবাব দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দাদের মনে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় ৩ দশকের পুরোনো এক স্মৃতি। ১৯৯৪ সালে বালুরঘাট আদালতে কালো কোট পরে আইনজীবীর ভূমিকায় নেমেছিলেন মমতা (Balurghat)। তখন কুমারগঞ্জের এক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল জেলা। সেই সময় আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তখন অবশ্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। তৃণমূল কংগ্রেসেরও তখন জন্ম হয়নি। তখন মমতা ছিলেন কংগ্রেসে। যুব কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির সভানেত্রী ছিলেন তিনি।
১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসের কথা। তখন বাম আমল। কুমারগঞ্জের গোপালগঞ্জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলেশ সরকার খুনের ঘটনায় ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। ক্রমে সেই আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ২২ জানুয়ারি আন্দোলনে নেমেছিল পড়ুয়ারাও। সেই মিছিল থেকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে পাথর ছোড়া হয়। পালটা পুলিশ গুলি চালায়। সেদিন পুলিশের গুলিতে দশম শ্রেণির ছাত্র পার্থ সিংহরায়ের মৃত্যু হয়। পুলিশ সেই সময় ৩২ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল। খবর পেয়েই কলকাতা থেকে ছুটে এসেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রথমে মৃত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরে বালুরঘাট আদালতে ধৃতদের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তাঁর আগমনের খবর পেয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু লোক আদালত সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন।
আজও সেইসব দিনের কথা মনে রয়েছে জেলার বর্ষীয়ান আইনজীবী সুভাষ চাকির। ঘটনাচক্রে সুভাষ এখন তৃণমূলের বালুরঘাট শহর কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বালুরঘাট বার অ্যাসোসিয়েশনের লাইব্রেরি ঘরে বসে আমরা মামলার কৌশল ঠিক করেছিলাম। পরে মিস্টার সিনহার এজলাসে আন্দোলনকারীদের পক্ষে জোরালো সওয়াল করা হয়।’
মৃত পার্থর বাড়ির লোকজনেরও সেসব কথা মনে রয়েছে। পার্থরই এক আত্মীয় রাজু সিংহরায় আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘সেই সংকটের দিনে কলকাতা থেকে এসে দিদি আমাদের পরিবারের পাশে ত্রাতা হিসেবে হাজির হয়েছিলেন। আজ আবার তাঁকে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে দেখে গর্ব হচ্ছে।’
আরও উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, কাকতালীয়ভাবে ঠিক ৪ ফেব্রুয়ারিই সেই ৩২ জন জামিন পেয়েছিলেন। তবে রাজু আক্ষেপ করে বলেন, ‘শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্তদের কোনও শাস্তি হয়নি।’ এমনকি পুলিশের গুলিতে মৃত পার্থর পরিবারও কোনও সুবিচার পায়নি।
সেদিন আদালত কক্ষে মমতার কাছে বালুরঘাটের উন্নয়নের জন্য রেল সংযোগের দাবি জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা। সেই দাবি মেনেই পরবর্তীতে একলাখি-বালুরঘাট রেলপ্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।

